https://www.prothomalony.com/
15787
north-america
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:২৫
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইতিহাস মনে রাখবে সেই ব্যক্তি হিসেবে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আবার তার অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছেন। ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মার-আ-লাগোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর ‘দ্য রেকর্ড উইথ গ্রেটা ভ্যান সাস্টেরেন’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্প হবেন প্রথম কোনো আমেরিকান, যিনি ইসরায়েলের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ইসরায়েল প্রাইজ’ লাভ করবেন।
নেতানিয়াহু বলেন, “ইতিহাস তাঁকে ভালোভাবেই বিচার করবে।” নিজের পারিবারিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর বাবা ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ। “অনেক সময় মানুষের উপলব্ধি করতে দেরি হয়। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কুৎসা রটনা ও রাজনৈতিক বিরোধিতা চলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব বিষয় নিজ নিজ জায়গায় স্থির হয়ে যায়।”
ট্রাম্পের শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে ধরেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প তা কার্যকর করেছেন। “তিনি সরাসরি কথা বলেন,” বলেন নেতানিয়াহু। “তিনি মূল বিষয়ে পৌঁছে যান এবং তারপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করেন।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিপীড়িত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্প দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র খ্রিস্টানরা নিপীড়নের শিকার, ইসরায়েল ছাড়া। একমাত্র ইসরায়েলেই খ্রিস্টান সম্প্রদায় বেড়েছে এবং সমৃদ্ধ হয়েছে। এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।”
হামাস ও হিজবুল্লাহর হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা বদলে দেওয়া। “আমরা মধ্যপ্রাচ্যকে ভালোভাবে বদলে দিয়েছি,” বলেন তিনি। “ইরানের সন্ত্রাসী প্রক্সি নেটওয়ার্ককে দুর্বল করেছি এবং ইসরায়েলকে হুমকির মুখে ফেলা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির ঝুঁকি পেছনে ঠেলে দিয়েছি।” নেতানিয়াহুর দাবি, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই নেওয়া হয়েছে। “আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, এবং এর ফলেই মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র বদলেছে,” বলেন তিনি।
ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এখন শান্তির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। “এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে,” বলেন নেতানিয়াহু। “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মিলেই সেই শান্তির পথ অনুসরণ করতে চাই।”
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন