https://www.prothomalony.com/

15717

north-america

উত্তর আমেরিকা

জমকালো আয়োজনে এটর্নি মঈন চৌধুরীর ‘দ্যা রোড টু আমেরিকা: ইমিগ্রেশন হার্ডশীপ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৭:৫৯

জমকালো আয়োজনে এটর্নি মঈন চৌধুরীর ‘দ্যা রোড টু আমেরিকা: ইমিগ্রেশন হার্ডশীপ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

সকলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা, বিপুল উপস্থিতি ও আন্তরিক আবহের মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি জনসমাজে সুপরিচিত এটর্নি ও নাগরিক সংগঠক এটর্নি মঈন চৌধুরীর গ্রন্থ ‘দ্যা রোড টু আমেরিকা: ইমিগ্রেশন হার্ডশীপ’ –এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহজ-সরল ভাষায় লেখা এই গ্রন্থে লেখক তাঁর দীর্ঘ পেশাজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমেরিকার অভিবাসন আইন, অভিবাসীদের বাস্তব লড়াই এবং বিশ্বজুড়ে আমেরিকার প্রতি মানুষের আকর্ষণের নানা দিক তুলে ধরেছেন।

২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য গ্রেস ম্যাং, নিউইয়র্ক রাজ্য সিনেটের সিনেটরসহ একাধিক বিচারপতি, বিচারক, আইনজীবী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য ও স্মরণীয় আয়োজনে।

নিউইয়র্কের প্রায় সব বাংলা গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শারমিন সিরাজ সোনিয়া।

শুরুতেই গ্রন্থটির লেখক এটর্নি মঈন চৌধুরী উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি তাঁর জীবনের একটি বিশেষ ও গর্বের দিন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে তাঁর অভিষেকের কথাও স্মরণ করেন তিনি। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে পরিবার ও কমিউনিটির অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে মঈন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকা তিনি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন এবং আগামীতেও তাঁর পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

গ্রন্থ প্রকাশের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিক ও লেখকের বন্ধু তরিকুল ইসলাম মিঠু। তিনি বলেন, অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আইনি জটিলতাকে একত্রে তুলে ধরার প্রয়াস এ বইকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য গ্রেস ম্যাং তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে অভিবাসন আইন সম্পর্কে সচেতনতা ও অধিকার চর্চা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তিনি বলেন, অভিবাসীরাই আমেরিকার প্রাণ। নানা জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির সমন্বয়েই যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। গ্রেস ম্যাং এটর্নি মঈন চৌধুরীর সাফল্য কামনা করেন এবং তাঁর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিনেটর ডেভিড উইপ্রিন, সুপ্রিম কোর্টের এক্টিং জাস্টিস এল্ডুইন নভিলো, জাস্টিস কেসেন্ড্রা জনসন, জাস্টিস এম. মুনজ, এসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা এবং এটর্নি মাইকেল তাউব। তাঁরা সবাই অভিবাসন বিষয়ে এমন একটি গ্রন্থ প্রকাশকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, আমেরিকার সমাজে প্রায় সবাই কোনো না কোনো পর্যায়ে অভিবাসী, আর সেই অভিবাসীদের আইনি অধিকার ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সহজ ভাষায় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এটর্নি মঈন চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

আলোচনায় অংশ নেন লেখকের সহোদর রব চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, পরিবারের সদস্য রনেল চৌধুরী, শাহরিয়ার চৌধুরী ও বিশাল চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক ও পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল আহসান, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ পত্রিকা সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, ডিস্ট্রিক্ট ৩৬–এর এসেম্বলি প্রার্থী মেরি জোবাইদা, কাজী আজম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সাংবাদিক হায়দার কিরণ, লায়ন মাঈন উদ্দিন, সিপিএ চিশতী, হাসানুজ্জামানসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, এই বইটি শুধু একটি আইনি গ্রন্থ নয়; এটি অভিবাসী জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়ার এক দলিল। এতে উঠে এসেছে আমেরিকার পথে পা রাখা মানুষের স্বপ্ন, অনিশ্চয়তা, আইনি জটিলতা ও নেপথ্যের অজানা গল্প—যেসব অভিজ্ঞতা কাগজে-কলমে খুব কমই ধরা পড়ে।

অভিবাসীদের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন ও বাস্তবতার ফাঁক, এবং টিকে থাকার প্রতিদিনের লড়াই—সব মিলিয়ে ‘দ্যা রোড টু আমেরিকা: ইমিগ্রেশন হার্ডশীপ’ সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন