https://www.prothomalony.com/

15687

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ট্রাভেল ব্যান ও অভিবাসন নীতিতে আতঙ্ক, বিপদে আফগান নারীরা

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৫:৫৮

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ট্রাভেল ব্যান ও অভিবাসন নীতিতে আতঙ্ক, বিপদে আফগান নারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি এক জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে ট্রাভেল ব্যান সম্প্রসারণ ও শরণার্থী নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অভিবাসী এবং শরণার্থীরা এই নীতির সরাসরি শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য সারা বেকস্ট্রম হত্যার ঘটনার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের আগেই পরিকল্পিত অভিবাসনবিরোধী এজেন্ডা আরও দ্রুত বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়। এই ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত এক আফগান আশ্রয়প্রার্থীকে সামনে রেখে পুরো আফগান ও মুসলিম অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বর আরও ১৫টি দেশকে নতুন ট্রাভেল ব্যানের আওতায় আনা হয়, যার ফলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বহু দেশের নাগরিকদের জন্য।

হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্তকে ‘মেকিং আমেরিকা সেফ অ্যাগেইন’ নীতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত জাতীয়তা ও জন্মস্থানের ভিত্তিতে মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কৌশল। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার, যা মুসলিম ও বর্ণবাদী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেই নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে তালেবানের হাত থেকে পালিয়ে আসা আফগান নারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের শেষ সম্ভাবনাটুকুও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে

নতুন নীতির অংশ হিসেবে শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৫০০, যার বেশিরভাগই নির্দিষ্ট একটি শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। ইউএসসিআইএস নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারীর জাতীয়তাকেই এখন অভিবাসন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিবেচ্য হিসেবে ধরা যাবে।

এই পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আফগান ও অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশ্রয় সাক্ষাৎকার বা সরকারি অফিসে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, অনেকে আইসকে তালেবানের চেয়েও বেশি ভয় পাচ্ছেন, কারণ গ্রেপ্তার মানেই তাদের কাছে নিশ্চিত মৃত্যুর পথে ফেরত পাঠানো। বিশেষ করে নারীরা, যারা তালেবান শাসনে শিক্ষা ও কর্মজীবন থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তারা ফের দেশে পাঠানো হলে গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিগুলো শুধু আফগানদের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সব অভিবাসীর মধ্যেই অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। কাজের অনুমতি হারানো, আইনি মর্যাদা নবায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরিবার নিয়ে টিকে থাকার সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে। তবে এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সম্প্রদায় আইনি লড়াই ও জনসচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন