https://www.prothomalony.com/

15657

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ আরও জোরদার

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ জোরদার করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ধাপগুলোর একটি।

নতুন নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবাকে (ইউএসসিআইএস) ২০২৬ অর্থবছরে প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০টি করে নাগরিকত্ব বাতিল (ডিন্যাচারালাইজেশন) সংক্রান্ত মামলা বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষ্য পূরণ হলে আধুনিক ইতিহাসে নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বেড়ে যাবে। তুলনায় ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে মাত্র ১২০টির কিছু বেশি।

ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সাধারণত নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় তখনই, যখন প্রমাণিত হয় যে আবেদনকারী নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জালিয়াতি করেছেন বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। তবে মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এই কঠোর অভিযানে অনিচ্ছাকৃত ভুল করা আইন মেনে চলা নাগরিকরাও তদন্তের মুখে পড়তে পারেন।

ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র ম্যাথিউ জে. ট্র্যাগেসার বলেন, যারা অবৈধভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের অগ্রাধিকার। নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি পদক্ষেপ নেব।

এই উদ্যোগ এমন এক প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন সামগ্রিকভাবে অভিবাসন ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আশ্রয় আবেদন স্থগিত রাখা এবং প্রধানত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং দেশের মূল্যবোধ রক্ষা করবে।

তবে ইউএসসিআইএস’র সাবেক কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তা সারা পিয়ার্স বলেন, মাসিক নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা নাগরিকত্বকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারে। এতে লাখো প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিকের মধ্যে অযথা ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকরা মনে করছেন, যারা অনিয়ম বা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের শনাক্ত করতেই এই উদ্যোগ জরুরি। অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রধান মার্ক ক্রিকোরিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো অতিরিক্ত নাগরিকত্ব বাতিল করছে—এমন অবস্থায় পৌঁছায়নি।

মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিক রয়েছেন। গত বছরই ৮ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নাগরিকত্ব বাতিল এখনো সহজ নয়। তবে নতুন এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন