https://www.prothomalony.com/
15656
north-america
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:২১
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত একটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) বন্দিশালায় ভয়াবহ চিকিৎসা অবহেলা, অমানবিক আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সাতজন আটক অভিবাসী ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ (এসিএলইউ) একাধিক সংগঠনের সহায়তায় ১২ নভেম্বর দায়ের করা এই মামলায় বন্দিশালাটির সার্বিক পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক ও শাস্তিমূলক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্যতম বাদী ফের্নান্দো ভিয়েরা রেয়েস জানান, আইসের হেফাজতে নেওয়ার পর থেকেই তিনি সম্ভাব্য প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছেন। আগের একটি বন্দিশালায় পরীক্ষায় ক্যানসারের লক্ষণ মিললেও এখনো তার বায়োপসি হয়নি। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না তিনি। ২০২৫ সালের আগস্টে ক্যালিফোর্নিয়া সিটি বন্দিশালায় স্থানান্তরের পর তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। আগের চিকিৎসা নথিপত্র স্থানান্তরের সময় পাঠানো না হওয়ায় চিকিৎসা কার্যত থমকে যায়। ভিয়েরা রেয়েসের আশঙ্কা, দীর্ঘ এই বিলম্বে রোগটি শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের কারাজীবনে তিনি কঠিন সময় পার করেছেন, তবে আইসের এই বন্দিশালার পরিস্থিতি তার দেখা সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
মামলায় আরও কয়েকজন বন্দির অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। ফের্নান্দো গোমেজ রুইজ নিয়মিত ইনসুলিন না পাওয়ায় গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। ইউরি আলেকজান্ডার রোক কাম্পোস হৃদরোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি, যদিও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দেখানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। গুস্তাভো গেভারা আলারকন শুধু গোসল শেষ করার অনুরোধ করায় একঘরে করে রাখার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবন্ধী বন্দিদের জন্য ন্যূনতম সহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে না। শ্রবণপ্রতিবন্ধী হোসে রুইজ ক্যানিজালেস, যিনি কেবল আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করেন, তিনি দীর্ঘ সময় দোভাষীর সহায়তা না পেয়ে চরম বিচ্ছিন্নতায় ভুগছেন। অনেক সময় কর্মীরা তাকে উপেক্ষা করেছেন কিংবা বিদ্রূপ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বন্দিশালার ভেতরের পরিবেশ নিয়েও ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। ছোট কংক্রিট কক্ষে বন্দিদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার, পানি বা গরম কাপড় নেই। শাওয়ারের ড্রেন দিয়ে পয়ঃবর্জ্য উঠে আসে এবং দেয়ালে পোকামাকড় চলাচল করে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় অনেক বন্দি হাত ঢাকতে মোজা ব্যবহার করতে বাধ্য হন। কেউ প্রতিবাদ করলে সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয় কিংবা একঘরে করে রাখা হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, অন্তত একজন বন্দি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেই ঘটনা প্রত্যক্ষ করা অন্য বন্দিদের কোনো মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়নি। বরং তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বন্দিদের মধ্যে ভয়, মানসিক চাপ ও হতাশা আরও বেড়েছে। অনেকেই এই পরিস্থিতিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আশা হারিয়ে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে সম্মত হচ্ছেন।
মোজাভি মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত এই স্থাপনাটি আগে একটি অঙ্গরাজ্য কারাগার ছিল। পরে আইস এটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোরসিভিকের মাধ্যমে অভিবাসন বন্দিশালায় রূপান্তর করে। পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বন্দি ও মানবাধিকারকর্মীরা একে ‘নির্যাতনকেন্দ্র’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
এই মামলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসের বন্দিশালাগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন