https://www.prothomalony.com/

15607

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনায় বিমানবন্দরের যাত্রীতালিকা পাচ্ছে আইস

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৬:১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের নামের তালিকা নিয়মিতভাবে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কাছে পাঠানো হচ্ছে। এতে সম্ভাব্যভাবে বহিষ্কারের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন সপ্তাহে একাধিকবার যাত্রীদের তালিকা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন আইসের কাছে পাঠাচ্ছে। আইস তাদের নিজস্ব ডেটাবেসের সঙ্গে এসব নাম মিলিয়ে যাদের বহিষ্কারযোগ্য মনে করছে, তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা নতুন নয়। তার দাবি, আগের প্রশাসনের সময় অবৈধ অভিবাসীদের দেশজুড়ে উড়োজাহাজে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যা বর্তমান প্রশাসন বন্ধ করতে চায়। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যেন দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্য ছাড়া আকাশপথে ভ্রমণ করতে না পারেন।

তবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন তা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যম কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে এই তথ্য বিনিময়ের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে গত ২০ নভেম্বর বোস্টনের লোগান বিমানবন্দরে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তার। টেক্সাসে পরিবারের সঙ্গে থ্যাংকসগিভিং উদ্‌যাপনে যাওয়ার আগে তাকে আটক করা হয় এবং পরে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়। শৈশব থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা ওই তরুণী নিজেও জানতেন না যে তিনি বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর বহিষ্কার একটি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে।

কয়েক সপ্তাহ পর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এল সালভাদর থেকে আসা এক অভিবাসী নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দরের যাত্রীতথ্য বিনিময় ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন দমন কৌশলের অংশ। এর আগে কর বিভাগ থেকে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের তথ্য পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আদালতের আদেশে তা স্থগিত হয়।

ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বহিষ্কারের কথা বললেও, বাস্তবে সাম্প্রতিক অভিযানে বহু দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী, পরিবার ও কর্মসংস্থানে যুক্ত অভিবাসীও গ্রেপ্তার হচ্ছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমালোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন