https://www.prothomalony.com/
15606
north-america
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৬:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য নাগরিকত্ব লাভের শেষ ধাপ এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির কারণে অন্তত ১৯টি দেশের অভিবাসীদের নাগরিকত্ব ও গ্রিন কার্ড সংক্রান্ত আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই ‘হাই রিস্ক’ তালিকায় রয়েছে কিউবা, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, লাওস ও মিয়ানমারসহ একাধিক দেশ। ফলে এসব দেশের বহু গ্রিন কার্ডধারীর নাগরিকত্ব গ্রহণের শপথ অনুষ্ঠান হঠাৎ করেই বাতিল করা হচ্ছে।
সাধারণত গ্রিন কার্ডধারীরাই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে কঠোর যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে আসেন। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলে তাদের আবারও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, সাক্ষাৎকার, ইংরেজি ও সিভিকস পরীক্ষা পাস করতে হয়। এসব ধাপ শেষ করেই শপথ অনুষ্ঠান হয়, যা নাগরিকত্বের চূড়ান্ত পর্যায়।
নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপের অভিবাসন সুরক্ষা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক আইনজীবী ডেবোরা চেন বলেন, “যাদের শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল, তারা প্রয়োজনীয় সব যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন।”
তবু নতুন নীতির আওতায় ফ্লোরিডায় কিউবান অভিবাসী আনি ক্যাবরালেস শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে নাগরিকত্ব অনুষ্ঠান বাতিলের ফোনকল পান। ম্যাসাচুসেটসে এক হাইতিয়ান নারীকে সরাসরি শপথ অনুষ্ঠানের লাইনের মাঝখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে চলতি বছরে প্রশাসন নাগরিকত্ব প্রস্তুতি কর্মসূচিতে দেওয়া সরকারি অনুদান কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ইংরেজি ও সিভিকস প্রশিক্ষণ দেওয়া বহু সংগঠন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। রোড আইল্যান্ডে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব প্রশিক্ষণ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা।
নতুন করে চালু করা হয়েছে ‘নৈতিক চরিত্র’ যাচাইয়ের নামে প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পাশাপাশি কঠোর সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং। এমনকি কর পরিশোধে কিস্তি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু আবেদন বাতিলের অভিযোগ উঠেছে।
এই বাড়তি কড়াকড়ির কারণে অনেক আইনজীবী এখন অভিবাসীদের নাগরিকত্বের আবেদন না করে শুধু গ্রিন কার্ড নবায়নের পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে আইনি ঝুঁকি এড়ানো যায়।
এদিকে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, শিগগিরই আটলান্টায় একটি নতুন ভেটিং সেন্টার চালু করা হবে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষভাবে ‘উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রগুলোর আবেদন যাচাই করা হবে।
নাগরিকত্বের স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করা বহু অভিবাসীর কাছে এই পরিস্থিতি এখন গভীর অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন