https://www.prothomalony.com/

15598

north-america

উত্তর আমেরিকা

ফেলানীর স্মরণে ভারতীয় দূতাবাসের সামনের সড়কের নাম ‘ফেলানী সড়ক’ করার দাবি

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:১৯

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মরণে ঢাকার গুলশান-২ ডিপ্লোমেটিক জোন থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কের নাম ‘ফেলানী সড়ক’ রাখার দাবি জানিয়েছে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাঙালিদের সংগঠন প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ (পিওবি)।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে ‘ফেলানী দিবস’ পালন করে সংগঠনটি। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ কনসুলেটে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কনসুলেটের পক্ষ থেকে মিনিস্টার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান।

প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল কাদের বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই সৎপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ হতে পারে না। এটি মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, অতীতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে নিহত ফেলানীর বিচার দাবি করা হয়নি। তবে বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পক্ষের সরকার হিসেবে জোরালোভাবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করবে, এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট আবদুস সবুর বলেন, ফেলানীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে মানবতাবিরোধী অপরাধ। তিনি বলেন, হত্যার পর চার ঘণ্টারও বেশি সময় ফেলানীর মরদেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তখন তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল, কিন্তু বিএসএফ তাকে উদ্ধার করেনি। মৃত্যুর ১৪ বছর পার হলেও এখনো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের সদস্য জুয়েল জাকির বলেন, একটি ১৫ বছরের কিশোরীকে নির্মমভাবে হত্যা করা কোনো সভ্য বাহিনীর আচরণ হতে পারে না। তিনি বলেন, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সামনের সড়কটির নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করা হলে অন্তত তার পরিবার কিছুটা শান্তি পাবে। দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের কাছে এই দাবি জানানো হচ্ছে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল, মুশফিকুর রহমান, মোহাম্মদ তারিফ ও রাসেল খান। সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল দূতাবাস কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় বাংলাদেশ কনসুলেটের কাউন্সেলর ইশরাত জাহানসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী খাতুন। তার মরদেহ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল। সেই ছবি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করলেও এখনো বিচার হয়নি।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন