https://www.prothomalony.com/

15509

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি জননিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, আইন-আদালতে ভয়!

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:০০

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন প্রয়োগের কৌশল বৈধ কাগজপত্রবিহীন ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা হ্রাস করছে। যা অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত  হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘ইউ-ভিসা’ কিভাবে ভরসা তৈরি করে, ভয় কমায় এবং সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে— শীর্ষক ৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাসনের ভয় দেখিয়ে অভিবাসীদেরকে অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ বা নিরাপত্তা আদেশের জন্য পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার পথ বন্ধ করা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন নীতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজকে জটিল করছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরামর্শদাতা সারা দারেহশোরি বলেন, অপরাধ দমন নিয়ে প্রচার থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর আইন প্রয়োগ কৌশল অপরাধীদের জন্য সুবিধাজনক। ফলে তারা ধরা বা বিচার হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদি প্রশাসন সত্যিই অপরাধ দমন করতে চায়, তাহলে ভিসা প্রোগ্রামগুলো সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করতে হবে। যাতে ভুক্তভোগীরা নির্বাসনের ভয় ছাড়াই এগিয়ে আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে কংগ্রেস ইউ-ভিসা প্রোগ্রাম চালু করে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন রোধ করতে। এই প্রোগ্রামের আওতায় ধর্ষণ, গৃহনির্যাতন, মানবপাচার এবং অন্যান্য ২৫ ধরনের অপরাধের শিকাররা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ বসবাসের সুযোগ পান। প্রোগ্রামটির লক্ষ্য হলো অপরাধীরা নির্বাসনের ভয় দেখিয়ে শিকারদের পুলিশে যাওয়ায় বাধা দিতে না পারা এবং তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা।

প্রতিবেদনের জন্য ২০২৫ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৪৩ জন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং শিকারদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এক সাক্ষাৎকারে একজন নারী জানান, জুন ২০২৩ সালে তার প্রেমিক তাকে নির্মমভাবে মারধর করেছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি সাহস পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশকে জানায় এবং এখন তার ইউ-ভিসার জন্য অপেক্ষা করছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, আইসের তীব্র আইন প্রয়োগ কৌশল শিকারদের আরও ভীত করে তুলছে। অভিবাসী শিকাররা অনেক সময় পুলিশ বা আদালতে যাওয়ায় ভয় পান। ২০২৫ সালের বসন্তে করা একটি জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসীদের ৭৫ শতাংশ পুলিশে অভিযোগ করতে ভয় পায় এবং ৭০ শতাংশ আদালতে যাওয়ায় দ্বিধা প্রকাশ করেছে।

ইউ-ভিসা প্রোগ্রামের সুবিধা শুধুমাত্র গৃহনির্যাতনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসী শিকাররা বেতন চুরি, হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, ঘৃণার অপরাধ এবং অপরিচিতদের দ্বারা সংঘটিত যৌন অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেন। যদিও পর্যাপ্ত ভিসা, প্রক্রিয়া দীর্ঘ, এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজনসহ বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আছে এই প্রোগ্রামে। তবুও এটি ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপত্তা এবং সাহায্যের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

নিউইয়র্ক সিটির গৃহনির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ কমিশনার সালোনি সেথি বলেন,ইউ-ভিসা শিকারদের ভয় ভেঙে সাহায্য প্রাপ্তি এবং অপরাধীকে বিচার করার সুযোগ দেয়। প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা হলে আরও শিকার নিরাপদে এগিয়ে আসতে পারবে। অপরাধীদের বিচার সম্ভব হবে এবং শহরটি আরও নিরাপদ হবে।

এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, কংগ্রেসকে ইউ-ভিসা প্রোগ্রামকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে শিকারদের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা যায়।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন