https://www.prothomalony.com/

15479

north-america

উত্তর আমেরিকা

‘অটোপেন’ স্বাক্ষর–

বাইডেন আমলের নথি বাতিলের হুমকি

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:০৫

ওয়াশিংটনের শীতল সকাল।
হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক দীর্ঘ পোস্ট।সেখানেই বিস্ফোরণ।

ট্রাম্প লিখেছেন—জো বাইডেনের নামে যে নথিগুলোতে যন্ত্রচালিত অটোপেন দিয়ে স্বাক্ষর করা হয়েছিল,তার “প্রায় বিরানব্বই ভাগ নথিই এখন বাতিল।”
তার ভাষায়—“এসব নথির আর কোনো বলবৎ শক্তি নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, বাইডেন নিজে অনুমোদন দেননি,“বৃত্তাকারে ঘিরে থাকা বামপন্থী চক্রই এসব করিয়েছে।”

ট্রাম্পের অভিযোগ—বাইডেন যদি বলেন যে তিনিই অনুমতি দিয়েছিলেন,তাহলে তাঁকে “মিথ্যা শপথের অভিযোগে আদালতে দাঁড়াতে হবে।”
এই ঘোষণা দিয়ে তিনি জানিয়ে দেন—বাইডেনের হাতে লেখা নয়, এমন সকল নির্বাহী আদেশও বাতিল।
সবই “অবৈধ।”

অটোপেন একটি যান্ত্রিক স্বাক্ষরপ্রক্রিয়া।একবার কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর নথিভুক্ত করলে যন্ত্রটি ঠিক সেই স্টাইলে পুনরায় স্বাক্ষর তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বহু বছর ধরে ব্যস্ততা, ভ্রমণ বা অসুস্থতার সময় বিভিন্ন নথিতে অটোপেন ব্যবহার করেছেন।

দুই হাজার পাঁচ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ এক মন্তব্য বলেছে—প্রেসিডেন্ট  যদি অনুমতি দেন,তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অটোপেন দিয়ে স্বাক্ষর করতে পারেন।সেই স্বাক্ষর আইনগতভাবেই বৈধ।
ইতিহাসেও বহু প্রেসিডেন্টই এভাবে নথি জারি করেছেন।

অর্থাৎ—অটোপেন ব্যবহার করা কোনো অপরাধ নয়।
নথিকে বাতিল করার কারণও নয়।

আইনজ্ঞদের মতে—ট্রাম্পের দাবি “আইনগত ভিত্তিহীন।”
কারণ—একটি নথির বৈধতা নির্ধারণ হয় অনুমোদন, প্রক্রিয়া ও নীতিগত বাধ্যবাধকতায়।
স্বাক্ষর যন্ত্রে হয়েছে কি হাতে হয়েছে—এটা মূল বিচার নয়।

আরও একটি বিষয়—এ পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি যে প্রেসিডেন্ট  বাইডেনের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া অটোপেন ব্যবহার করা হয়েছিল।

হোয়াইট হাউজে প্রশাসনিক অস্থিরতা বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।বাইডেন আমলের কাজে আইনি চ্যালেঞ্জ উঠতে পারে।কিন্তু আদালত যদি পূর্বের সিদ্ধান্ত, ইতিহাস ও নীতিমালাকেই মানে,তাহলে অটোপেনবিরোধী এই ঘোষণা
রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।


 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন