https://www.prothomalony.com/
15420
north-america
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:৩০
যুক্তরাজ্য সরকার সম্প্রতি একটি কঠোর নতুন ‘সেটেলমেন্ট’ নীতি ঘোষণা করেছে, যা কার্যকর হলে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করা প্রায় ১৭ লাখ বৈধ অভিবাসীর জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন আরও অন্তত ১০ লাখ অভিবাসীও নতুন নিয়মের কারণে প্রভাবিত হতে পারেন।
নতুন নীতি অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমা ৫ বছর থেকে বেড়ে ১০ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি হতে পারে। বিশেষ উচ্চ অবদানকারী বা ‘হাই-কন্ট্রিবিউটিং’ অভিবাসীদের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক রুট রাখা হয়েছে, যা তাদের দ্রুত আইএলআর (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু যারা সরকারী বেনিফিট বেশি নেন, অপরাধে জড়ান বা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় ২০ থেকে ৩০ বছরে গড়াতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে কোনো শিশু যুক্তরাজ্যে ৭ বছর কাটালে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে এবং বাবা-মা বৈধ না হলেও শিশু ও তার পরিবার স্থায়ীভাবে থাকতে পারে। কিন্তু নতুন নীতি অনুসারে, বাবা-মা অবৈধ হলে শিশুকেও তৃতীয় কোনো দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই নীতি পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হাউস অব কমনসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নতুন নীতির মূল দর্শন হলো স্থায়ী বসবাস আর ‘অধিকার’ নয়, বরং ‘অর্জিত যোগ্যতা’। সরকারের মতে, যারা নিয়ম মেনে কাজ করছে, ট্যাক্স দিচ্ছে ও সমাজে অবদান রাখছে, তাদের জন্য দ্রুত রুট রাখা হয়েছে। অপরদিকে কম অবদানকারী বা অবৈধ অভিবাসীদের জন্য কঠোরতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইপিপিআর-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন মানুষ স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষায় ছিল। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল ১২.৯ লাখ কর্মী ভিসাধারী, ১.৬ লাখ শরণার্থী ও সুরক্ষা প্রাপ্ত ব্যক্তি, ১.৮৩ লাখ হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) ভিসাধারী এবং আরও প্রায় ৩০ হাজার অন্য রুটের অভিবাসী। নতুন নীতির ফলে তাদের আইএলআর পাওয়ার পথ দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে।
নতুন নীতি মানবাধিকার সংস্থা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। লেবার পার্টির এমপিরা বলছেন, যারা ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছেন, তাদের ফেরত পাঠানো বা দীর্ঘ অপেক্ষায় রাখা অন্যায়। হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড ডাবস বলছেন, শিশুদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে যা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন নীতি কার্যকর হলেও এর বাস্তবায়ন সহজ হবে না। সংসদে দীর্ঘ বিতর্ক, জনমত যাচাই এবং আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি এই নীতি ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিমধারী, ব্রিটিশ সিটিজেনদের স্পাউজ বা তাদের সন্তান ও পিতামাতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
একই সময়, অভিবাসীরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ‘কেয়ার’ ভিসায় আসা মাসুম হোসাইন বলেন, “আমি আশা করেছিলাম ২০২৭ সালে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাব। কিন্তু সরকারের হঠাৎ ঘোষণার ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।”
সরকারের যুক্তি হলো, উচ্চ অভিবাসন চাপ, আবাসন সংকট ও জনসেবার ওপর বোঝা কমানোর জন্য নতুন ব্যবস্থা প্রয়োজন। যারা নিয়ম মেনে অবদান রাখছে তাদের জন্য দ্রুত রুট রাখা হলেও কম অবদানকারীদের জন্য অপেক্ষার সময় দীর্ঘ করা হবে।
নতুন নীতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেকেউ মতামত প্রদান করতে পারবেন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন