https://www.prothomalony.com/
15419
north-america
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শাটডাউনের সময় যখন অধিকাংশ সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তখনও ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তারা দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে আটক এবং নির্বাসিত করেছেন। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শাটডাউন চলাকালীন আইস প্রায় ৫৪ হাজার মানুষকে আটক করেছে এবং প্রায় ৫৬ হাজার মানুষকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি শাটডাউনের সময় অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা বেতনহীন ছুটিতে থাকলেও আইসের কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়েছেন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আটককৃত প্রায় ২১ হাজার মানুষের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই।
বর্তমানে আইসের বিভিন্ন কেন্দ্র এবং প্রাইভেট কন্ট্রাক্টরের পরিচালিত স্থানে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ বন্দি রয়েছে। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আধুনিক যুগের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় সংখ্যা।
ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইস কর্মকর্তাদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ হাজার মানুষকে আটক করতে বলা হয়েছে। লিক হওয়া ইমেইলে নির্দেশনা ছিল, ওয়ারেন্ট না থাকলেও অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষদেরও আটক করা হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন বড় শহরগুলোতে যেমন লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং চার্লট, নর্থ ক্যারোলাইনাতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদেরও ডেপুটি হিসেবে নিযুক্ত করে আইসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। আইসের বড় বাজেটের কারণে এই অভিযান দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনিবন্ধিত অভিবাসীরাও এই অভিযান থেকে বাদ যায়নি। নথিবিহীন বা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মানুষদের জন্য এই অভিযান সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
গবেষকরা বলছেন, আইসের বন্দি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ার ফলে বহু পরিবার ও শিশু মানসিক ও আর্থিক সমস্যায় পড়ছে। এছাড়াও, এই নীতি অনুযায়ী বন্দি থাকা অভিবাসীদের জামিনের সুযোগ সীমিত হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীরা তাদের পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অভিযান অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য ভয়, অনিশ্চয়তা এবং অকারণ কষ্ট সৃষ্টি করছে। এই নীতি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও পরিবারিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন