https://www.prothomalony.com/

15400

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কমেছে ১৭ শতাংশ

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৪:৫৮

চলতি বছরের অটাম বা শরতে সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভর্তি হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। স্টুডেন্ট ভিসার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কারণে এই পতন ঘটেছে বলে গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ বলেছে—ভিসা আবেদনের উদ্বেগ ছিল প্রধান কারণ। আর ৬৮ শতাংশ জানিয়েছে—ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের কথা। আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ৮২৫টি মার্কিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য দিয়েছে।

অবৈধ অভিবাসনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে একাধিক নীতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো প্রকাশ্যে দেখানোর অনুরোধ করতে। সেসব অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ আছে কি না, তা খুঁজে দেখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের আওতায় কিছু স্টুডেন্ট ভিসা বাতিলও করা হয়েছে। নতুন ভিসা নিতে চাওয়া শিক্ষার্থীরা বিলম্বের মুখে পড়েছেন।


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে দেশের ভিসা নীতিগুলোকে আরও শক্তিশালী করছেন।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ভিসা সাক্ষাৎকারের অপেক্ষা, অথবা বছরের শুরুর দিকে ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার মতো কারণ ভিসা পেতে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ, যেমন—দেরি বা প্রত্যাখ্যান, বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।


২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে বলে অনুমান করছে অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটর্স। অলাভজনক এই সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই শিক্ষার্থীদের অবদান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা পান না এবং তারা পুরো টিউশন পরিশোধ করেন। স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ভর্তি কমে যাওয়া, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ার মাঝে এসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

সোমবারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নতুন আন্তর্জাতিক ভর্তিতে বৃদ্ধি দেখিয়েছে, ১৪ শতাংশ স্থিতিশীল প্রবণতা দেখিয়েছে, আর ৫৭ শতাংশ পতনের কথা জানিয়েছে।

বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই সেশনে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে কম ভর্তি হয়েছেন এবং তারাই সম্ভবত জাতীয়ভাবে এই পতনের প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ভারত এখন শীর্ষ উৎস দেশ।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন