https://www.prothomalony.com/

15370

north-america

উত্তর আমেরিকা

সাব-আইসের কঠোর অভিযানে নাগরিকত্ব নিয়ে হুমকি

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নেচারালাইজড নাগরিকদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ০৬:০৮

যুক্তরাষ্ট্রে নেচারালাইজড নাগরিকরা নিজেদের নিরাপদ মনে করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি সেই নিরাপত্তার ভিত্তি ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।  যেদিন তারা নাগরিকত্বের শপথ নিয়েছিলেন সেই প্রতিশ্রুতি এখনও কি তাদের জন্য প্রযোজ্য আছে কি-না অনেক নেচারালাইজড নাগরিক সেসব বিষয় নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন।

সিয়েরা লিয়োনের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে প্রায় দশ বছর শরণার্থী শিবিরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে আসেন দাউদা সেসাই। তিনি বলেন, আমি যখন নাগরিকত্বের শপথ নিয়েছিলাম, তখন বিশ্বাস করেছিলাম আমি এই দেশের অংশ। দেশও আমাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। কিন্তু এখন এই নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ মনে হচ্ছে। সেসাই বর্তমানে শরণার্থী ও অভিবাসীদের সহায়তার জন্য কাজ করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও আইসের অভিযান নেচারালাইজড নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসের অভিযান চলাকালীন কিছু নাগরিকও আটক বা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। সেসাই বলেন, আমি এখন দেশে ঘোরার সময়ও আমার পাসপোর্ট ছাড়া কোথাও যাই না, যদিও আমার কাছে ফেডারাল আইডি রয়েছে।

আইসের কঠোর পদক্ষেপ এবং বিচার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধ বা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ঝুঁকির কারণে নেচারালাইজড নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে নেচারালাইজড নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে।

ইতিহাসও দেখায় নাগরিকত্ব সবসময় স্থির ও সুরক্ষিত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রাকৃতিকীকরণ আইন ১৭৯০ সালে শুধুমাত্র “সাদা, মুক্ত ব্যক্তি”দের জন্য প্রযোজ্য ছিল। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ও অন্যান্য জাতির নাগরিকরা পরে সংযোজন করা হয়। ১৯২৩ সালে ভারতীয় নাগরিকদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, ১৯৪০-এর দশকে জাপানি মার্কিন নাগরিকদের ইন্টারনমেন্টে রাখা হয়েছিল।

ইতিহাসবিদ স্টিফেন ক্যান্ট্রোভিৎস বলেন, নাগরিকত্বের সংজ্ঞা রাজনৈতিক প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও কখনও রাজনৈতিক ক্ষমতা ঠিক করে দেয়, কে নাগরিক হতে পারবে আর কে পারবে না।

দাউদা সেসাই বলেন, আমেরিকার প্রতি আমি যেই শপথ নিয়েছিলাম, এখন সেই দেশের মধ্যে আমি নিজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হারিয়েছি। এটা আমার জন্য বিশ্বাসঘাতকতার মতো।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নেচারালাইজড নাগরিকদের ওপর আইসের কার্যক্রম এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি জনমতের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। নাগরিকরা যেমন নিরাপত্তা আশা করেছিলেন, এখন সেই নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন