https://www.prothomalony.com/

15302

north-america

উত্তর আমেরিকা

স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে স্থায়ী ভিসা পেতে বাধা যুক্তরাষ্ট্রে

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:৫০

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব আবেদনকারীর ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ভিসা আবেদন বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে। এই নিয়ম মূলত স্থায়ী বসবাসের (পারমানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনকারীদের ওপর প্রযোজ্য হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে ‘পাবলিক চার্জ’ বা অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারেন। বিশেষ করে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সেবা খরচ দেশের সরকারি সম্পদে চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ভিসা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর চিকিৎসা ব্যয় বহনের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে এবং নিশ্চিত হতে হবে যে, তিনি সরকারী সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সেবার উপর নির্ভর করবেন না।

নতুন নির্দেশিকায় কেবল সংক্রামক রোগ বা টিকাদানের ইতিহাস নয়, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সমস্যা, স্নায়বিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা—এছাড়াও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগকে ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কেএফএফ হেলথ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নোটিশ আকারে পাঠানো হয়েছে।

আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিবাসন আইনজীবী সোফিয়া জেনোভেস বলেন, “এই নির্দেশিকায় আবেদনকারীদের চিকিৎসা ইতিহাস ও সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয় মূল্যায়নের দায়িত্ব ভিসা কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে, যারা চিকিৎসক নন। এর ফলে ব্যক্তিগত ধারণা বা পক্ষপাতের ভিত্তিতে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।”

ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের সিনিয়র অ্যাটর্নি চার্লস হুইলারও সতর্ক করেছেন, “যদি এই নীতি সকল ধরণের ভিসার জন্য প্রযোজ্য হয়, তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।”

নতুন নিয়মে আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যও বিবেচনায় আনা হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সন্তান বা প্রবীণ অভিভাবকের কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন থাকলে তা আবেদনকারীর কর্মক্ষমতা ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা যাচাই করা হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য আরও গুরুত্ব পাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত হতে পারে।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন