https://www.prothomalony.com/
15196
north-america
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৪:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আঞ্চলিক সম্মেলনের সময় তিনি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের সমাধানে মধ্যস্থতা করে 'কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষর করেন। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত বহন করে।
কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল এই চুক্তিকে 'শান্তির পথ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়।
ট্রাম্পের সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বাণিজ্যিক চুক্তি। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে আমেরিকার কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ইন্দোনেশিয়া ১৯ শতাংশ শুল্কে আমেরিকার পণ্য আমদানির সুযোগ পায়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
ট্রাম্পের বাণিজ্যিক নীতির ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো চীনের দিকে ঝুঁকছে। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের ওপর আমেরিকার শুল্ক চাপের পর, চীন এই দেশগুলোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কম্বোডিয়ায় ৩৭টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে অবকাঠামো, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতে চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ট্রাম্পের নীতির প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হলেও, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো শুল্ক বৃদ্ধির কারণে চীনের দিকে ঝুঁকছে।
ট্রাম্পের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর আন্তর্জাতিক শান্তি ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যদিও তার বাণিজ্যিক নীতির কারণে কিছু দেশ চীনের দিকে ঝুঁকছে, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে এখন তাদের স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। ট্রাম্পের সফর এই অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন