https://www.prothomalony.com/
15084
north-america
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৩৩
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতির পরিবর্তন ও কঠোরীকরণের ফলে ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের ব্যস্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। সরকারি নীতিতে কড়াকড়ি আর রদবদলের কারণে ব্যক্তি, পরিবার ও কর্পোরেশনরা দ্রুত আইনি পরামর্শ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ই শুরু হয়েছিল এই প্রবণতা। এইচ-১বি ভিসার শর্ত আরও কঠোর করা, অনুগত নয় এমন অভিবাসীদের দেশে প্রত্যাহার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ আইনজীবীদের কাছে ক্লায়েন্টদের প্রশ্নবাণী ও পরামর্শের চাপ বহুগুণে বাড়িয়েছে। কিছু আইনফার্ম জানিয়েছে, এ বছরের শুরু থেকেই তাদের পরামর্শের অনুরোধের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি।
আইনজীবীরা বলছেন, বিশেষ করে কর্পোরেট ক্লায়েন্টরা যারা উচ্চমেধার অভিবাসীদের নিয়োগ দেয়, তারা এখন প্রতিটি আবেদন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন আইনজীবীদের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্যে কিয়র স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে। স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা ও শরণার্থী গ্রহণের নিয়ম কঠোর করা, ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং শরণার্থী সংখ্যা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ আইনজীবীদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। স্থানীয় আইনফার্মগুলো জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে তাদের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত নীতি পরিবর্তন একদিকে যেমন সরকারি উদ্দেশ্য পূরণ করতে সাহায্য করছে, অন্যদিকে তা আইনগত জটিলতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নও তৈরি করছে। অভিবাসন প্রার্থী, নিয়োগ প্রতিষ্ঠান এবং আইনজীবীদের জন্য এটি নতুন ধরনের চাপ এবং দায়িত্ব তৈরি করেছে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই চাপ আরও বাড়তে পারে, কারণ নীতি কড়াকড়ি হলেও অভিবাসন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। ফলে প্রয়োজন হবে আরও সুনির্দিষ্ট, দ্রুত এবং দক্ষ আইনি পরামর্শের।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতি কঠোর করায় আইনজীবীদের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কেবল আইনগত সাহায্য নয়, বরং সরকারি নীতি, মানবাধিকার এবং প্রক্রিয়ার সমন্বয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন