https://www.prothomalony.com/
15042
north-america
২০২৫ সালের বৈজ্ঞানিক নোবেল পুরস্কারে তিনজন বিদেশজাতে জন্মানো বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফ্রান্স থেকে আসা মিশেল দেভোরেট, যুক্তরাজ্য থেকে আগত জন ক্লার্ক এবং স্থানীয় বিজ্ঞানী জন মার্টিনিস যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানের জন্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাদের গবেষণা “কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং”-এর উপর, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অভিবাসী বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাদের প্রতিভা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা দিয়ে দেশকে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করছেন। বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউসুফ ইয়াগির জীবনই সেই প্রমাণ। শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তিনি প্রথমে সীমিত ইংরেজি দক্ষতা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। কমিউনিটি কলেজ থেকে প্রারম্ভিক শিক্ষা অর্জন, পরে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি এবং এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা—এভাবে তিনি তার গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধরনের কেমিক্যাল কাঠামো আবিষ্কার করেছেন।
তবে এই বৈজ্ঞানিক সাফল্যের পেছনে লুকানো এক বাস্তবতা রয়েছে। বর্তমান আমেরিকান প্রশাসনের কঠোর অভিবাসী নীতি অনেক অভিবাসীকে উদ্বেগ, ভয় ও বিতাড়নের মুখোমুখি করছে। এমন নীতিমালা তাদের পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করছে। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে অবদান রাখলেও হাজার হাজার দক্ষ অভিবাসী এখনও নৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অভিবাসীদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, তাহলে দেশের দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বিপন্ন হতে পারে।” নোবেল বিজয়ীদের সাফল্যই প্রমাণ করে, অভিবাসীরা কেবল শ্রমশক্তি নয়, বরং উদ্ভাবনী শক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অমূল্য অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও বিশ্বনেতৃত্বের পেছনে যে অবদান রেখেছেন অভিবাসীরা, তা এখনও যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছে না। বিতাড়নের নীতি যদি চালু থাকে, তবে আগামী প্রজন্মের নতুন মেধাবী অভিবাসীরাও দেশের সাফল্যের অংশ হতে পারবে না।
এই নোবেল বিজয়ীরা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন—অভিবাসীর হাত ধরেই উন্নতি আসে, কিন্তু বাস্তবতা বলছে, সেই হাতকেই প্রায়ই ঠেলা হয় বাইরে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন