https://www.prothomalony.com/
14916
north-america
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৬:৪২
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ চারজনকে হত্যাকারী শেন ট্যামুরার মস্তিষ্কে জটিল স্নায়ুবিক রোগ ক্রনিক ট্রম্যাটিক এনসেফেলোপ্যাথি (সিটিই) শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি অফিস অব দ্য চিফ মেডিক্যাল এক্সামিনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ২৮ জুলাই সকালে ট্যামুরা ম্যানহাটনের একটি বহুতল ভবনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে দিদারুল ইসলাম, নিরাপত্তারক্ষী অ্যালান্ড এটিয়েন এবং দুই নারী—জুলিয়া হাইমেন ও রুডিন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে ট্যামুরা নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার দিন ট্যামুরার পকেট থেকে তিন পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। এতে তিনি লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মারাত্মক মস্তিষ্কের আঘাতের শিকার এবং এর জন্য তিনি ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল)-কে দায়ী করেন। ট্যামুরার অভিযোগ ছিল, খেলোয়াড়দের মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হলেও এনএফএল তা গোপন করেছে এবং মুনাফা অর্জনের জন্য সবকিছু আড়াল করেছে।
চিরকুটে ট্যামুরা আরও লেখেন, “আমার মস্তিষ্ক সম্পর্কে জানার চেষ্টা করো। আমি দুঃখিত।” তার এই চিঠিই ময়নাতদন্তকারীদের মস্তিষ্কের টিস্যু পরীক্ষা করার প্রাথমিক সূত্র হয়ে ওঠে।
পরীক্ষায় দেখা যায়, ট্যামুরার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের টিস্যুতে সিটিইর স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ও বারবার মাথায় আঘাত পেলে এই রোগ দেখা দেয়, যা স্মৃতিভ্রংশ, বিভ্রান্তি, মানসিক অবসাদ ও আচরণগত অস্বাভাবিকতার কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের রোগ অচিকিৎসিত অবস্থায় বিপজ্জনক আচরণে রূপ নিতে পারে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যামুরার মূল লক্ষ্য ছিল এনএফএলের সদরদপ্তর। তবে তিনি ভুল লিফটে উঠে পাশের ভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এ ভুলই চারজন নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়।
নিহত দিদারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনি একজন সৎ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যু বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে। পরিবার ও সহকর্মীদের পাশাপাশি দেশেও তার মৃত্যুর খবর গভীর শোক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনায় এসেছে এনএফএল খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদী মস্তিষ্কের ক্ষতির বিষয়টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটিই নিয়ে আরও গবেষণা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, ট্যামুরার মতো মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধান না থাকায় সমাজকে এমন ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এলোপাতাড়ি গুলি ও চারজনের প্রাণহানির এই ঘটনা নিউইয়র্কবাসীর মনে এখনও আতঙ্কের ছায়াফেলছে। একই সঙ্গে এটি মস্তিষ্কজনিত রোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন