https://www.prothomalony.com/
14883
north-america
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:১৭
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের উচ্চ-দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছেন। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় তিনি ঘোষণা করেছেন যে, H-1B ভিসার জন্য নতুন আবেদনকারীদের একটি লাখ ডলারের ফি দিতে হবে। প্রশাসন কোম্পানিগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাড় দেওয়ার অধিকার রাখছে। এই পদক্ষেপ দেশীয় কর্মীদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ কমানো, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে ধীরগতি এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
H-1B ভিসা মূলত বিশেষ পেশার জন্য প্রযোজ্য, যেখানে প্রায়শই ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকান কোম্পানিগুলি দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারে, যখন দেশীয় শ্রমিকের অভাব থাকে। তবে অনেক কোম্পানি এই ভিসা ব্যবহার করে কম মজুরি দিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে আমেরিকান কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে।
ট্রাম্পের লাখ ডলারের ফি মূলত এই সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীরা এই খরচ বহন করতে পারবে এবং সাধারণ দক্ষতার কর্মী নিয়োগ কম হবে। তবে এই পদক্ষেপটি আমেরিকার বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
H-1B ভিসা বিতরণের পদ্ধতি লটারির মাধ্যমে হওয়ায় অনেক সময় কম দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ বেশি থাকে। বড় আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে, যা দেশীয় কর্মীদের জন্য ক্ষতিকর। ট্রাম্পের পদক্ষেপ এই প্রবণতাকে কমাতে পারে, তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ-দক্ষ অভিবাসন আমেরিকার উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে ট্রাম্পের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় কর্মীদের মজুরি এবং কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে বেতন ভিত্তিক ভিসা বরাদ্দ প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা সবচেয়ে দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেবে।
ট্রাম্পের নতুন নীতি বাস্তব সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি আরও বড় চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং গবেষণার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন