https://www.prothomalony.com/

14844

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ফি এক লাখ ডলার বাড়ালেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৩৪

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য বহুল আলোচিত এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি এই ভিসার আবেদনের খরচ এক লাখ ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এতদিন যেখানে প্রশাসনিক খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ দেড় হাজার ডলার দিতে হত, এখন থেকে আবেদনকারীদের এক লক্ষ ডলার অতিরিক্ত দিতে হবে। আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত অর্থ প্রদান না করলে বা ভিসা প্রোগ্রামের অপব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের মতে, এই ভিসার সুযোগে বিদেশিরা এসে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত করছে। অন্যদিকে, ইলন মাস্কসহ অনেক ব্যবসায়ী নেতার দাবি, এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের শীর্ষ প্রতিভাবানদের আকর্ষণ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

নতুন ঘোষণার সময় ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। তিনি বলেন, বড় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে এই নতুন নিয়মে রাজি আছে এবং তারা অতিরিক্ত অর্থ দিতে প্রস্তুত। লুটনিকের ভাষায়, “আমেরিকানদের প্রশিক্ষণ দাও। আমাদের চাকরি কেড়ে নেওয়ার জন্য লোক আনা বন্ধ করো।”

ট্রাম্প একই দিনে আরেকটি নির্বাহী আদেশে ধনী অভিবাসীদের জন্য ‘গোল্ড কার্ড’ নামে নতুন ভিসা চালু করেন। এতে এক মিলিয়ন পাউন্ড বা তার বেশি অর্থ প্রদানের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা পাওয়া যাবে।

সরকারি তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে এইচ-ওয়ানবি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল অ্যামাজন। এরপর রয়েছে টাটা, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও গুগল। তবে চলতি অর্থবছরে আবেদন কমে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে।

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন এই নিয়ম ছোট ব্যবসা ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের জন্য ভয়াবহ আঘাত হয়ে দাঁড়াবে। আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসনের মতে, “এটা সবার ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। অনেক প্রতিষ্ঠান বলবে, তারা দেশে প্রয়োজনীয় কর্মী পাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ জর্জ লোপেজের মন্তব্য, এক লাখ ডলার ফি মার্কিন প্রতিযোগিতায় স্থবিরতা তৈরি করবে এবং অনেক কোম্পানি হয়তো বিদেশে কার্যক্রম স্থানান্তরের চিন্তা করবে। তবে বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

ট্রাম্প এর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এইচ-ওয়ানবি ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেই সময় ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ২০১৮ সালে বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছিল, যেখানে ওবামার আমলে তা ছিল সর্বোচ্চ আট শতাংশ এবং বাইডেনের আমলে তা আবার কমে চার শতাংশে নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্ত ভারতের মতো দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করবে, কারণ এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদনকারীদের সবচেয়ে বড় অংশ আসে সেখান থেকে। তবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকেও যেসব দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য এই ফি বৃদ্ধি বিরাট ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।


 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন