https://www.prothomalony.com/
14812
north-america
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ অভিবাসী হিসেবে আসে। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে অভিবাসীদের জীবনেস নেমে এসেছে দুর্যোগের কালো মেঘ। প্রতিনিয়ত শঙ্কায় জীবন পার হচ্ছে তাদের। যদিও ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আরও বেশি অভিবাসী চাইছেন। তাদের মতে, অভিবাসীরা অর্থনীতি ও সমাজকে গতিশীল করে এবং কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
জানা গেছে, টেকনোলজি খাত, কৃষি শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিবাসীদের চাহিদা বিশেষভাবে লক্ষ্যযোগ্য। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে, যারা নতুন আইডিয়া এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষি খাতের জন্য এইচ-১এ ভিসার মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিক প্রয়োজন। যারা ফসল তোলা, গাছপালা রোপণ এবং অন্যান্য মৌসুমী কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের যোগদানের ওপর নির্ভরশীল। তারা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মাধ্যমে বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এছাড়া, অভিবাসীরা নতুন ব্যবসা শুরু করে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে।
অভিবাসীদের ফলে আমেরিকান সমাজে উদ্ভাবন ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীল খাতে নতুন ধারনা নিয়ে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বৃহৎ কোম্পানি এবং স্টার্টআপ অভিবাসীদের কারণে গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সীমিত অভিবাসন নীতি অর্থনীতির সম্ভাবনা সীমিত করতে পারে। বরং সংযমী ও নিয়ন্ত্রিত নীতির মাধ্যমে দক্ষ এবং উদ্ভাবনী অভিবাসীদের প্রবেশ বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিবাসীরা শুধু কর্মশক্তি নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অংশ। তারা নতুন সম্প্রদায় গঠন, স্থানীয় ব্যবসায়ে অবদান রাখা, এবং নাগরিকত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে সংহতি বৃদ্ধি করে। মার্কিন ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বাস করে, অভিবাসীর এই বহুমাত্রিক অবদান দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির জন্য অপরিহার্য।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন