https://www.prothomalony.com/
14761
north-america
হাবিব আলী—৮ দশক আগে পশ্চিমের এ জনপদে তার আগমন ঘটেছিল। তখনকার কঠিন সময়ে হাবিব আলীর মতো অল্প কিছু মানুষ আমেরিকায় পা রাখেন। আমেরিকায় বাংলাদেশিদের এখনকার যে দৃপ্ত পদযাত্রা, তার ভীত রচনা করেছেন তারাই। প্রবাসের নাটকীয় জীবন কাটিয়ে একসময় হাবিব আলী দেশেও ফিরে গিয়েছিলেন। দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার লড়াইয়ে প্রবাসে থেকেও অংশ নিয়েছেন। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর গ্রামের হাবিব আলীর প্রবাসজীবন সময়ের এক মহাকাব্য। হাবিব আলী সেই মহাকাব্যের নায়ক। তার হাত ধরে শুরু হয়েছিল একটি পরিবারের যাত্রা, যা আজ প্রজন্মান্তরে বিস্তৃত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শক্ত ভিত্তির ওপর।
১৯৪০-এর দশকে যখন আমেরিকার মাটিতে পা রাখেন হাবিব আলী, তখন প্রবাস জীবনের বাস্তবতা ছিল আজকের মতো সহজ নয়। না ছিল আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা, না ছিল প্রবাসী সমাজের বিস্তৃত পরিসর। ছিলেন শুধু অল্প কিছু মানুষ। অদম্য স্বপ্ন আর পরিশ্রমী হাত। সেই হাত দিয়েই তারা গড়েছিলেন ভবিষ্যতের বীজতলা।
বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি, আর্থিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে ছিল প্রতিনিয়ত সংগ্রাম। হাবিব আলীরা থেমে যাননি। তারা জানতেন, এই কষ্ট একদিন ফলপ্রসূ হবে। তার সন্তানরা এই মাটিতেই নতুন জীবন গড়বে। শিক্ষা-সংস্কৃতি আর কর্মে হবে দৃঢ়।
আজ যখন তার পরিবার তাকে স্মরণ করছে, তখন শুধু একজন মানুষকে নয়, স্মরণ করছে সেই প্রজন্মের লড়াইকে। যারা বাংলাদেশের প্রবাস জীবনের ইতিহাস লিখেছেন নিজেদের হাতে।
১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউজার্সির উডল্যান্ড পার্ক গ্যারেট মাউন্টেনের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত প্যাট ডি লানি বোটহাউসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় একজন হাবিব আলীকে।
প্রার্থনায়,সংগীতে, আলাপে ছিল হাবিব আলীর গল্প। সেখানে তুলে ধরা হয় তার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও পথচলা। মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছিল আট দশকের পারিবারিক ছবি।অভিবাসনের বিভিন্ন দলিল।স্বাধীন স্বদেশের পাসপোর্ট।
হাবিব আলীর প্রবাস জীবনে মাতৃভূমি দুইবার স্বাধীনতা পেয়েছে।ইতিহাসের লড়াকু প্রজন্মের উজ্জ্বল প্রতিনিধি ছিলেন হাবিব আলীরা।
পেটার্সনের সিটি মেয়র থেকে শুরু করে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে। হাবিব আলীর পুত্রবধূ ফ্রাংক্লিন টাউনশিপের ডেপুটি মেয়র শিফা উদ্দিন পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন।হাবিব আলীর ছেলেরা ও স্বজনরা সবাইকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ ভালোবাসার স্মৃতিতে অশ্রুপাত করেছেন একজন হাবিব আলীর জন্য।সে এক অনন্য দৃশ্য।
হাবিব আলী সমগ্র বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এক শিক্ষা। হাবিব আলীরা দেখিয়ে গিয়েছেন অভিবাসন মানে শুধু বিদেশে বসতি স্থাপন নয়। এটির মানে ইতিহাসের ভিত গড়ে দেওয়া। তার বংশধরেরা আমেরিকার সমাজে সম্মানিত, প্রতিষ্ঠিত। আর এর পেছনে রয়েছে একজন মানুষের দৃঢ় সংকল্প, অবিচল আস্থা এবং আত্মত্যাগ।
উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলছেন, একজন মানুষের জীবন যখন প্রজন্মকে আলোকিত করে, তখন সেটি আর কেবল ব্যক্তিগত থাকে না। হয়ে ওঠে সমষ্টিগত ইতিহাস। হাবিব আলী সেই ইতিহাসেরই এক উজ্জ্বল নাম। আমেরিকায় তার ৮০ বছরের যাত্রা একটা সময়ের হিসাব । পাশাপাশি এটি আমাদের অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম, ভালোবাসা আর প্রেরণার প্রতীক।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন