https://www.prothomalony.com/

14684

entertainment

বিনোদন

চলচ্চিত্র 'ইলাইজা' : আধুনিক সভ্যতার নতুন এক সংকটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৯

আমি কোন মুভি সমালোচক নই, শুধুই দর্শক। তবে আমি মুভি দেখতে পছন্দ করি। নতুন একটা ছোট্ট বিশ মিনিটের ফিকশন মুভি দেখলাম-ইলাইজা। নির্মাতা বাংলাদেশি এক তরুণ রাজীদ সিজন, জেনে একটু বেশি আগ্রহ বোধ করলাম।

বিন্দুতে সিন্ধু আসলে কথার কথা। বিন্দুতে কি সিন্ধুর প্রতিফলন ঘটে! কথাটা বললাম কারণ মুভির বিষয়বস্তু বড় ক্যানভাসের, বড় পরিসরের। বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রথম জেনারেশনের কাহিনী। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন রকম জীবন সংগ্রাম। ভিন্ন রকম স্বপ্ন, আমেরিকান ড্রিম। সে স্বপ্ন কখনো স্বপ্ন ভঙ্গের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ঘটে যায় আত্মহননের মতো বিয়োগান্তক পরিনতি।

ছোট মুভিটা দেখতে দেখতে অভিবাসী জীবনের, বিশেষত হলুদ ক‍্যাবিদের দুঃখ বেদনার সাথে একাত্ম বোধ করেছি। বাঙালি অভিবাসীদের একটা বড় অংশ তো হলুদ ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে, পরিসংখ্যান তাই বলে। তাদের সংগ্রাম- দুঃখ- কষ্ট-বেদনা-বঞ্চনার গাথা এতো ছোট পরিসরে তুলে ধরা নৈপুণ্যের পরিচায়ক বৈকি!

মুভিটির কাহিনির মূল প্রতিপাদ্য শুধু অভিবাসীদের জীবন সংগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় , সংস্কৃতির একটা সংকটের। আধুনিক সভ্যতার নতুন এক সংকটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। নতুন আবির্ভূত একটা সমস্যা, হয়তো আগেও ছিলো সমাজে অন্তঃসলিলার মতো সঙ্গোপনে, আধুনিকতার ধরন বদলের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো সেটা সমাজের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। যেটার সঙ্গে অনেকেই পরিচিত নন, যেটা নিয়ে এক ধরনের ঢাকঢাক গুড়গুড়  বাংলাদেশের সমাজে আছে।

সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে সমস‍্যার মুখোমুখি হওয়া প্রাচীন বা সনাতনপন্থী বাবা-মার জন্য এক অকল্পনীয় ভীতিকর অভিজ্ঞতা। সে সমস্যার সমাধান বা মোকাবিলা করার উপায় তাদের অজানা। এই ছবির অন্যতম মূল চরিত্র বাবা-মার সে দুঃসহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা চিত্রায়িত করা হয়েছে।

কম্যুনিটির একটি ছেলে সেই সমস্যার কোন সমাধান না পেয়ে নিজের জন্য পরিবারে বা সমাজে কোন স্পেস না পেয়ে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করা হয়তো বাবাটির চোখ খুলে দেয়। তার নিজের কন্যা, শশী সেই সমস্যায় বিপর্যস্ত। সে নিজেকে ইলাইজা মনে করে। সে সম্ভবত জেন্ডার ডিসফোরিয়াতে আক্রান্ত। শশী বা ইলাইজার সেই সংকট নিয়ে তার বাবা-মা র জীবনটা অনেকটাই উল্টো পাল্টা হয়ে যায়। জীবন একটা রোলার কোস্টার রাইডের মতো হয়ে যায় যেন।

শেষ পর্যন্ত সংস্কারের ওপরে জয়ী হয় অপত্যস্নেহ এবং জয়ী হয় মানুষের অভিযোজন যোগ্যতা। ছবিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার আমার কাছে ভালো লেগেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ অভিবাসী হয়ে আমেরিকা এসেছেন এবং সবাই তাদের নিজ আঞ্চলিক ভাষাই তো ব্যবহার করেন।

আমার সঙ্গে একজন বসে মুভিটা দেখছিলেন। তিনি মুভির ব্যাপার একটু বোদ্ধা বলা যায়। উনি মত প্রকাশ করলেন যে লাইট ইত্যাদির ব্যাপারে আরো যত্নশীল হওয়ার সুযোগ ছিলো। আর আমার মনে হয়েছে শেষ দৃশ্যে যে মেসেজটা দেওয়া হয়েছে সেটা দেওয়া হয়েছে  খুব ঠিকভাবে কী? খুব সরল সমীকরণের মতো হলো যেন ! সিনেমার একটা নিজস্ব ভাষা আছে, সে ভাষায় দেয়া যেত কী? কি জানি, আমিই হয়তো বুঝতে পারিনি। বিন্দুতে সিন্ধু ধরা সম্ভব নয় সেটাও তো ঠিক।

দর্শক হিসেবে আমার মন্তব্য সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত, সাবাস! বিশেষ করে যে বিষয় নিয়ে মুভিটি, সেটা প্রথাবদ্ধ সমাজে, বাঙালি সমাজ অনেকটাই বদ্ধ জলাশয়ের মতো স্থবির, নির্মাতার সাহসের পরিচয় দেয় !  সাধুবাদ তরুণ নির্মাতা রাজীদ সিজনের অবশ্যই প্রাপ্য! রাজীদ সিজনের জন্য তিন উল্লাস!

বিনোদন থেকে আরো পড়ুন