https://www.prothomalony.com/

14599

north-america

উত্তর আমেরিকা

একজন উপদেষ্টার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ ০৭:২৫

সম্প্রতি এক উপদেষ্টা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ফলক উন্মোচন করতে গিয়ে নিজের নাম দেখে ফলক উন্মোচন করেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “এই বাইপাস কি আমার বাবার টাকায় হয়েছে, যে এতে আমার নাম থাকবে?” এমন আচরণ যদি নিছক ছবি তোলার আয়োজন বা শুধু মুখের কথা না হয়ে সত্যিই হৃদয় ও বিবেকের সমন্বয়ে হয়ে থাকে, তবে এটি নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশে প্রচলিত রীতি হলো, প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত সবাই মনে করেন তিনি বিচারের ঊর্ধ্বে। তাদের ধারণা থাকে, আমি ছাড়া বাকিরা সবাই আইনের আওতাধীন। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সমস্যাটা হলো, যে যায় লঙ্কা সেই হয় হনুমান।

আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা আমার। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজকে একটি ছোট স্কুল থেকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করেছি। এর আগে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে সাড়ে বারো বছর অধ্যাপনা করেছি। আমার বহু ছাত্র আজ পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে অবসর নিয়েছেন, কেউ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে পৌঁছে অবসর নিয়েছেন।

১৯৪২ সালে জন্ম, ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছি। পাকিস্তান আমল দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীন করেছি। গত ২৪ বছর উত্তর আমেরিকায় বসবাস করছি। নিউইয়র্ক সিটিতে চার বছর কিশোর পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছি। তাই আমি মনে করি আমার কিছু বলার অধিকার আছে।

সবাইকে বলব প্রথমে নিজেকে ঠিক করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আমি যা করছি তা কি আইনসঙ্গত। পৃথিবীতে জবাবদিহি এড়িয়ে গেলেও আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে কাঁচের ঘরে বসে অন্যকে ঢিল মারা যায় না। নিজের লোভ-লালসা ত্যাগ করতে পারলেই দেশ ঠিক হবে।

ছাত্রসমাজকে বিশেষভাবে বলব মাছি হবেন না, মৌমাছি হোন। মাছির কোনো রুচিবোধ নেই। সে যেমন মিষ্টিতে বসে তেমনি বিষ্ঠাতেও বসে। বরং বিষ্ঠার প্রতিই তার আগ্রহ বেশি। সে কোনো উপকার করে না, বরং রোগ ছড়ায়। কিন্তু মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে মানুষের জন্য ঔষধ তৈরি করে। তাই কোরআন শরীফে মাছির উল্লেখ নেই, কিন্তু মৌমাছি একটি বড় স্থান পেয়েছে (সূরা নাহল দ্রষ্টব্য)।

আমার এ বক্তব্য কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। এটি আমার নিজের জন্যও যেমন, তেমনি সবার জন্য।

আল্লাহ হাফেজ

গোলাম জিলানী নজরে মোরশেদ
ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন