https://www.prothomalony.com/
14538
north-america
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫ ০৭:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবার হ্রাস পেয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১.৪ মিলিয়ন কমে ৫১.৯ মিলিয়নে নেমেছে। যা দেশটির ১৯৬০-এর দশকের পর সবচেয়ে বড় পতন।
জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী প্রবাহের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন অভিবাসী, আর আইসিই ২০০ দিনের মধ্যে ৩.৩ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ৩.৫৯ লাখ অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস ও শিকাগোর মতো শহরে। প্রশাসন সীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ প্রায় বন্ধের পর্যায়ে আনার পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই হ্রাস কৃষি, নির্মাণ, হসপিটালিটি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে শ্রমিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। অভিবাসীদের সংখ্যা কমার কারণে দেশে উদ্ভাবন, গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি জন্মগ্রহণকারীর অংশ কমে ১৯% থেকে ১৮.৫% নেমেছে। শ্রমবাজারে এ হঠাৎ পরিবর্তন দেশটির জিডিপি, সামাজিক সুরক্ষা ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে “নেগেটিভ নেট মাইগ্রেশন” হিসেবে উদযাপন করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করছেন, কঠোর নীতির কারণে বহু পরিবার ভেঙে যাচ্ছে এবং অভিবাসীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এই পতন শুধু অভিবাসীদের উপরই প্রভাব ফেলছে না, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক ও কর্মীদের আগমনেও প্রভাব পড়ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সংখ্যা হ্রাসের ফলে শ্রমবাজারে ঘাটতি, সামাজিক বিভাজন এবং অর্থনীতিতে স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। এটি একটি নীতিগত সংকট হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের অভিবাসন নীতি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন