https://www.prothomalony.com/

14430

north-america

উত্তর আমেরিকা

সিএলপি: শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিস্তারে এক অনন্য উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ ০২:৫৮

সিএলপি বা কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রাম-বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের মধ্যে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞান ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে থাকে। এ নিয়েই গত বৃহস্পতিবার (৭ই আগস্ট) প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাপ্তাহিক সম্প্রচার "টক অব দ্য উইক"-এ কথা বলেন, অজন্তা সিদ্দিকী ও এ.টি.এম. কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন রোকেয়া দীপা। পরিচালনায় এইচ বি রিতা।
 
অজন্তা সিদ্দিকী জানান, সিএলপি-র সঙ্গে তাঁর ২১ বছরের দীর্ঘ পথচলার গল্প। প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ফারুকের উদ্যোগে মাত্র দুইটি কম্পিউটার দিয়ে শুরু হয়েছিল এই কার্যক্রম। বর্তমানে এটি বিস্তৃত হয়েছে দেশের ৫৬ জেলায়, যেখানে ৩০৯টি কেন্দ্রে ৪৬০৪ জন শিক্ষক কাজ করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী বেসিক কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

অজন্তা সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন, যারা সময়, শ্রম ও দক্ষতা দিয়ে অবদান রাখছেন। অনেকে তাদের পরিবারকেও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত করেছেন, যা সিএলপি-কে আরও শক্তিশালী করছে।
 
এ.টি.এম. কামরুজ্জামান, যিনি ১২ বছর ধরে এই উদ্যোগের সঙ্গে আছেন, বলেন, সিএলপি' চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে: বেসিক কম্পিউটার কোর্স,স্মার্ট ক্লাসরুম,এডুকেশন থ্রু এন্টারটেইনমেন্ট,কানেক্ট স্টুডেন্ট এরাউন্ড দা ওয়ার্ল্ড, মাই ইংলিশ প্রোগ্রাম, ম্যাথমেটিক্স প্রোগ্রাম। এসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি, ইংরেজি ও গণিতে দক্ষতা অর্জন করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।

কামরুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় অনুষ্ঠান, পোস্টার ও ভিডিওর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করে সরাসরি কমিউনিটিতে তাদের কার্যক্রম পৌঁছানো এবং ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার লক্ষ‍্যে কাজ করে যাচ্ছে সিএলপি।
 
তারা জানান, গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সিএলপি'র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবক ও প্রশিক্ষকদের সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা হয়।
 
কানেক্ট স্টুডেন্ট আরাউন্ড দা ওরার্ল্ড- প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন ক্লাস ও সাংস্কৃতিক বিনিময় হয় প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিস্তৃত করা, আরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করা এবং অনলাইন শিক্ষার পরিধি বাড়িয়ে দেশ-বিদেশে সিএলপি-এর সুযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ‍্যেই কাজ করে যাচ্ছে সিএলপি।
 
সুবিধাবঞ্চিত যুবসমাজের মধ্যে শিক্ষার আগ্রহ তৈরির কৌশল নিয়ে, এ.টি.এম. কামরুজ্জামান বলেন, "শিক্ষা যেন শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়। আমরা স্মার্ট ক্লাসরুম, অ্যানিমেশন ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে পাঠকে আরো  আকর্ষণীয় করে তুলছি। ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন জাগানো ও কর্মদক্ষতা অর্জনে অনুপ্রেরণা দেয়া ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক ও পরিবারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছি যেন ভালোবাসা ও ধৈর্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।"
 
অজন্তা সিদ্দিকী বলেন,"প্রাসঙ্গিক ও ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা শেখানো, যেমন: কম্পিউটার লিটারেসি, অফিস স্কিল, ইংরেজি, গণিত-এসব আমরা করে থাকি। স্বল্পমেয়াদি (যেমন এক মাস) ফলপ্রসূ কোর্সও আছে যাতে দ্রুত চাকরির যোগ্যতা অর্জন সম্ভব হয়। জব মার্কেট প্রস্তুতি, বিজনেস কমিউনিকেশন ও পার্সোনাল এক্সেলেন্স ট্রেনিং রাখা হয়।"
 
শিক্ষাব্যবস্থায় এআই টুলসের ব্যবহার নিয়ে, এ.টি.এম. কামরুজ্জামান মনে করেন, চ্যাট জিপিটি ও এআই শিক্ষাকে দ্রুত, সহজ ও মানসম্মত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শেখার প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া সম্ভব। এআই-এর মাধ্যমে নতুন দক্ষতা অর্জন ও চাকরির প্রস্তুতি সম্ভব। তবে এতে দায়িত্বশীল ব্যবহার জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তা হারিয়ে না ফেলে।"
 
সেদিনের আলোচনায় সিএলপি-এর নানা কার্যক্রম সম্পর্কে এভাবেই তারা নিজ নিজ ‌অভিজ্ঞতা ব‍্যক্ত করেন।  প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার "টক অব দ্য উইক" অনুষ্ঠানটি প্রতি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় রাত ৯টায় ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন