https://www.prothomalony.com/

14397

north-america

উত্তর আমেরিকা

অভিবাসন নীতির কঠোরতা, মাংস প্যাকিং শিল্পে হাজারো কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মুখে

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ ০৭:৩১

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া রাজ্যের মাংস প্যাকিং শিল্পে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওটুমওয়া অঞ্চলে জুলাই মাসে ২০০ জন কর্মী বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে শ্রমিক সংকট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মিট ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার মাংস প্রক্রিয়াকরণ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বা হারাতে পারেন। যার মধ্যে আইওয়ায় প্রায় ৭ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি অর্থনীতিবিদ ডারমোট হেইস বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে মাংসের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পশুপালকদের আয় কমে যেতে পারে।

ইউনিয়ন নেতারা বলেছেন, এই কর্মীরা করোনাভাইরাস মহামারীর সময় 'প্রয়োজনীয় কর্মী' হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন এবং এখন তাদের চাকরি হারানো শুধু উৎপাদনের জন্য নয়, একটি সম্প্রদায়ের জন্যও বড় সংকট।

ওটুমওয়ার মাংসপ্যাকিং ইউনিয়ন, ইউনাইটেড ফুড অ্যান্ড কমার্শিয়াল ওয়ার্কার্স  লোকাল ২৩০-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান উলিন বলেন, এই শ্রমিকরা গর্বের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল। এখন তাদের বরখাস্ত করা দুঃখজনক এবং অমানবিক।

স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করেন, যারা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে স্কুল, গির্জা ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন কঠোর করার পেছনে মানবিক প্যারোল কর্মসূচি এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। তবে শ্রমিক অধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা এই নীতির সমালোচনা করছেন, কারণ তারা মনে করেন এটি বহু পরিবারকে দুর্ভোগে ফেলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাংস প্যাকিং কোম্পানি জেবিএস, স্মিথফিল্ড ফুডস ও টাইসন ফুডস কর্মী সংকট মোকাবিলার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে মজুরি বৃদ্ধি ও নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসী শ্রমিক ছাড়া এই শিল্পে কার্যক্রম চালানো কঠিন, তাই নীতিমালা পুনর্বিবেচনা ও স্থায়ী সমাধান দরকার।
 

 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন