https://www.prothomalony.com/
14370
north-america
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫ ০৪:২০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বাদ দিয়ে একটি “নতুন ও সঠিক” জনগণনা (সেন্সাস) শুরু করার জন্য। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ও তথ্য ব্যবহার করে এই জনগণনা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য ও ফেডারেল অর্থায়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “আমি আমাদের বাণিজ্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা অবিলম্বে নতুন সেন্সাসের কাজ শুরু করে, যা আধুনিক তথ্য-পরিসংখ্যান এবং বিশেষভাবে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে হবে। যারা অবৈধভাবে আমাদের দেশে অবস্থান করছে, তারা এই সেন্সাসে গণনা হবে না।”
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানাননি, নির্বাচনের ফলাফল ব্যবহার করে কীভাবে জনগণনা পরিচালিত হবে বা এটি আলাদা একটি গণনা হবে নাকি ২০৩০ সালের নির্ধারিত জনগণনাকে নতুনভাবে সাজানো হবে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সব মানুষের “বাস্তব গণনা” করা বাধ্যতামূলক। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০২০ সালে, মহামারি শুরুর সময়, যা সঠিক হিসাব নেওয়াকে কঠিন করে তুলেছিল।
ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে জনগণনায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন যোগ করতে চেয়েছিলেন, যা সমালোচকদের মতে অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বাদ দিতে পারত। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে পরিকল্পনাটি স্থগিত করে এবং পরে তা পরিত্যক্ত হয়। এরপর ট্রাম্প চেষ্টা করেছিলেন গণনা শেষ হওয়ার পর কিন্তু ফল প্রকাশের আগে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার জন্য। যদিও প্রক্রিয়াগত কারণে সুপ্রিম কোর্ট চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেয় এবং ফলাফল বাইডেন প্রশাসনের হাতে পৌঁছালে তাতে সম্পূর্ণ সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনথিভুক্ত অভিবাসী বাদ দিলে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কের মতো বড় অভিবাসী জনসংখ্যা সম্পন্ন রাজ্য কংগ্রেসের আসন ও ইলেকটোরাল কলেজের ভোট হারাতে পারে।
২০৩০ সালের জনগণনা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে অনুষ্ঠিত হবে, তবে প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত মাসে জনগণনা ব্যুরো যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, তাতে নাগরিকত্ব প্রশ্ন বা নির্বাচনের ফল ব্যবহারের কোনো উল্লেখ ছিল না। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর জনগণনা পরিচালক রব সান্তোস পদত্যাগ করেন, তবে নতুন নিয়োগ এখনো হয়নি।
হোয়াইট হাউস, বাণিজ্য বিভাগ বা জনগণনা দপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের নির্দেশ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন