https://www.prothomalony.com/

14172

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ সেবাব্যবস্থা

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫ ১৪:৫০

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবার সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবীণ সেবাখাতে। নার্সিং হোম, হোম কেয়ার এজেন্সি এবং বয়স্কদের সহায়তা প্রদানকারী বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রগুলোতে অভিবাসীদের উপর নির্ভরশীলতা এতটাই গভীর যে প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটে ভুগছে এবং অনেকে তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা গেছে,  ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হাইতি, কিউবা, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের দেয়া সাময়িক বসবাস ও কাজের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সিনিয়র কেয়ার প্রতিষ্ঠানে সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এই আইনি সুরক্ষা উঠে যাওয়ায় তাদের অনেককে চাকরি হারাতে হয়েছে। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত হচ্ছেন নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।

ফ্লোরিডার বোকা রেটনের 'টোবি অ্যান্ড লিয়ন কুপারম্যান সিনাই রেসিডেন্স'-এর সিইও র‍্যাচেল ব্লামবার্গ জানান, ইতোমধ্যে তারা হাইতি ও কিউবার ১০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন এবং আসছে সপ্তাহগুলোতে আরও ২৮ জন হাইতিয়ান কর্মী চাকরি হারাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র এই একটি প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই হওয়া ৩৮ জন কর্মী গোটাব্যবস্থার প্রায় ৯ শতাংশ।

“আমরা ইতোমধ্যে গড়ে ১০ শতাংশ বেতন বাড়িয়েছি এই শূন্যতা পূরণে, কিন্তু এত কর্মী হঠাৎ হারিয়ে সেটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না,” বলেন ব্লামবার্গ।

স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সিনিয়র কেয়ার খাতে সরাসরি সেবা প্রদানকারী কর্মীদের প্রায় ২৮ শতাংশই অভিবাসী। অন্যদিকে, পুরো মার্কিন নাগরিক শ্রমশক্তিতে অভিবাসীর সংখ্যা মাত্র ১৯ শতাংশ। হোম কেয়ার খাতে এই সংখ্যা আরও বেশি—৩২ শতাংশ।


একটি জাতীয় সংগঠনের প্রেসিডেন্ট কেটি স্মিথ স্লোন বলেন, যখনই আমরা এই কর্মসূচিগুলোর সমাপ্তির ঘোষণা শুনি, তখন থেকেই সেবা প্রদানকারীরা কর্মীদের হারাতে শুরু করে। অনেকে ভয়ে আর কাজে আসছেন না। এটা আমাদের পরিকাঠামোকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে।

ম্যাসাচুসেটসের ট্রিবিউট হোমকেয়ারের প্রধান নির্বাহী জন স্নিথ বলেন, ইতোমধ্যে তারা ৯ জন অভিবাসী কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন এবং আরও ৬ জনকে শিগগিরই বিদায় জানাতে হবে।

“এই মানুষগুলো কেবল সেবা প্রদানকারী নয়, অনেক ক্লায়েন্টের কাছে পরিবারসদস্যের মতো। তাদের হঠাৎ চলে যাওয়া প্রবীণদের জন্য এক দুঃসহ মানসিক আঘাত,” বলেন স্নিথ।

বোস্টনের লরেল রিজ পুনর্বাসন ও দক্ষ সেবা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক কলিন ও’লিরি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে আসছে মাসগুলোতে ১০ শতাংশ কর্মী হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, বেশিরভাগই হাইতিয়ান। “আমরা যদি এসব শূন্য পদ পূরণ করতে না পারি, তাহলে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এতে করে সেবার মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি—দুটোই বাড়বে,” তিনি বলেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, আমেরিকান শ্রমিকদের জন্য কাজ তৈরি করাই আমাদের অঙ্গীকার। অভিবাসন আইনের কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য।

অন্যদিকে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য ভিন্ন। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের সহপরিচালক জুলিয়া গেলাট বলেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, প্রবীণদের দেখভাল করতে অভিবাসন ছাড়া বিকল্প নেই।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষক ডেভিড গ্র্যাবোস্কি বলেন, কর্মী সংকটে পড়লে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা মান কমে যাবে। কেউ পড়ে যাওয়া, পানিশূন্যতা বা মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন। এমনকি তাদের সামাজিক জীবনের মানও কমে যেতে পারে।

সিনিয়র কেয়ার খাতের নেতারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে বহু প্রতিষ্ঠান সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। এই নীতির বাস্তবায়ন যাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তারা বলছেন—এটা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা মানবিকতা ও মর্যাদার প্রশ্ন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন