https://www.prothomalony.com/
14135
north-america
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আয়োজনে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় সাপ্তাহিক "টক অফ দ্য উইক" জুম অনুষ্ঠান। এতে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকরা যুক্ত হয়ে আলোচনা করেন। গত ১০ জুলাই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও স্থপতি আনোয়ার ইকবাল। তিনি মেট্রো ওয়াশিংটন এলাকার প্রবাসী বাঙালিদের অবস্থান, নিরাপত্তা, কর্মজীবন এবং সংস্কৃতিচর্চা নিয়ে কথা বলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এইচ বি রিতা, উপস্থাপনা করেন রোকেয়া দীপা।
আনোয়ার ইকবাল বলেন, ওয়াশিংটন মেট্রোপলিটন এলাকার প্রবাসী বাঙালিরা যেন এক বড় পরিবার। তারা একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে থাকে এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে ভালোভাবে সম্পৃক্ত। ধারণা করেন, এই অঞ্চলে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বাঙালি বাস করে।
নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, ওয়াশিংটন অত্যন্ত নিরাপদ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হওয়ায় এবং বহুসংস্কৃতির মানুষের বসবাসের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। প্রবাসীরা নিজেদের বেশ সুরক্ষিত মনে করেন।
চাকরির বাজার সম্পর্কে আনোয়ার ইকবাল বলেন, ওয়াশিংটন এলাকায় চাকরির সুযোগ সব সময়ই ভালো থাকে। কারণ এখানে সরকারি অফিস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দুটোই রয়েছে। তবে নতুন অভিবাসী ও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি নেই এমনদের জন্য চাকরি পাওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে নতুনদের চ্যালেঞ্জও বেশি। তবুও এখানকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা নতুনদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
তিনি আরও বলেন, বাঙালি সমাজে একে অপরকে সাহায্য করার প্রবল ঐক্য রয়েছে। নিউইয়র্কের মতো তীব্র চাকরির প্রতিযোগিতা এখানে নেই, তাই কেউ হাল ছেড়ে দেয় না, সবাই কাজের ব্যবস্থা করতে পারে।
সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনে প্রবাসীরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি মজাদার ভাষায় বলেন, "এখানে ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ নয়’, বরং ‘বারো মাসে বাহান্ন পার্বণ’।" বাঙালি সংগঠনগুলো নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ নানা জাতীয় ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। এতে সমাজের একতা ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়।
মেট্রো ওয়াশিংটনের বাঙালি সমাজে বড় ধরনের কোনো সামাজিক বিভেদ দেখা না গেলেও, দীর্ঘদিন বসবাসকারীদের মধ্যে কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক পার্থক্য আছে। তবে এটি বড় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক মতাদর্শে কিছু বিভাজন থাকলেও তা বড় চ্যালেঞ্জ নয়। প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নতুনদের ভাষা, সংস্কৃতি ও চাকরির বাজারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।
আনোয়ার ইকবাল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। লেখালেখি শুরু করেছিলেন ১৯৬৯ সালে, ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে। প্রথম গল্প ছাপা হয় ১৯৭২ সালে 'পূর্বদেশ' পত্রিকার ছোটদের পাতায়। এরপর দীর্ঘ বিরতি আসে পড়াশোনা, রাজনীতি ও পেশাগত জীবনের ব্যস্ততায়। পরবর্তীতে ফেসবুক ও প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরীর উৎসাহে আবার লেখালেখি শুরু করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে তিনি বলেন, প্রবাসী সমাজ শেকড় থেকে দূরে থাকলেও সাংস্কৃতিক চর্চা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন