https://www.prothomalony.com/

14067

opinion

অভিমত

একাত্তরের প্রহরী: প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পতাকা বহনের দৃপ্ত প্রত্যয়

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ ১১:১৮

তারা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির পুনরুত্থান স্পষ্ট। যখন ১৯৭১ সালের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে যাওয়ার প্রয়াস চলছে, তখন দেশ ও প্রবাসে একদল মননশীল, প্রতিবাদী মানুষ গড়ে তুলেছেন একটি সংগঠন—‘একাত্তরের প্রহরী’। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,  এটি প্রবাসে জন্ম নেওয়া একটি প্রত্যয়—যা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাহীনতার অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাওয়ার সংকল্পে গড়া।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশে যখন রাজনৈতিক দৃশ্যপটে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, ঠিক সেই সময় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, টরন্টো, লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকেরা একত্রিত হয়ে দাঁড়ান এক মঞ্চে। তাঁদের ভাষ্য ছিল স্পষ্ট—বাংলাদেশের স্বাধীনতা কারও দয়া নয়, এটি রক্ত ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত। সেই অর্জন রক্ষায় প্রয়োজন একটি সংগঠিত প্রতিবাদ, সুদূরপ্রসারী কৌশল এবং সর্বোচ্চ সচেতনতা।

এই ভাবনাকে ভিত্তি করেই জন্ম নেয় ‘একাত্তরের প্রহরী’। সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে, যা আগামী দুই বছর দায়িত্ব পালন করবে।

কমিটির সভাপতি হিসেবে ড. নুরুন নবীর সাথে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন স্বীকৃতি বড়ুয়া। সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, লুৎফুন নাহার লতা, এ্যানি ফেরদৌস, আব্দুল কাদের মিয়াঁ, মিনহাজ আহমেদ এবং ফকির ইলিয়াস। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন গোপাল সান্যাল। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন সুতপা মণ্ডল। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন গোপন সাহা এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন আহমেদ।

প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আসলাম আহমেদ খান। সাংস্কৃতিক সম্পাদক শারমিন নাহার নিরু এবং তার সহযাত্রী হিসেবে যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েছেন তাহরিনা পারভিন প্রীতি। তথ্য ও চলচ্চিত্র বিষয়ক সম্পাদক রওশন আরা নিপা, সাহিত্য সম্পাদক স্মৃতি ভদ্র, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জয়তুর্য চৌধুরী।

কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে যারা যুক্ত হয়েছেন তারা হলেন: বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জিনাত নবী, জি এইচ আরজু, ড. বিলকিস রহমান দোলা, মিশুক সেলিম, আবু সাইদ রতন, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, খালেদ শরফুদ্দিন, নাজনিন সিমন, স্বাধীন মজুমদার, মনিরা আকঞ্জি, সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, সিসিলিয়া মোর্যাল, শাহিদা সিকদার হাই, ঝর্না চৌধুরী, ইয়াকুব আলী মিঠু, আব্দুল হামিদ এবং পঙ্কজ তালুকদার।

উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন: বিশিষ্ট লেখক বেলাল বেগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরু বাঙালী, রাফায়েত চৌধুরী, মিথুন আহমেদ, ড. দিলিপ নাথ, রানা হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া চৌধুরী, দস্তগির জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন বাবু, হাসান আল আব্দুল্লাহ ও মঞ্জুর কাদের।

সংগঠনের মূল লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান এবং রাজনীতির নামে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা কনফারেন্স কক্ষে প্রতিবাদ নয়, বরং প্রবাসে বাঙালির মূলধারার অংশ হয়ে, কূটনৈতিক পরিসরে, মূলধারার মিডিয়ায় এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলাই এখন সময়ের দাবি।

‘একাত্তরের প্রহরী’ সংগঠনটি ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু বইমেলা, প্রতিবাদ সভা, বাংলা ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলেছে। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের মূলধারার রাজনৈতিক মহলে সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব আজ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রবাসে এমন একটি সংগঠন শুধু সময়ের দাবি নয়, একটি নৈতিক দায়িত্বও বটে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ কেবল অতীত নয়, এটি একটি নিরবিচ্ছিন্ন চর্চার নাম। আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবাস থেকেই শুরু হতে পারে এক নতুন জাগরণ, এক নতুন প্রতিরোধ।

সংগঠকরা বলেছেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, যারা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য ‘একাত্তরের প্রহরী’ হতে পারে এক নতুন আশ্রয়। এই সংগঠন প্রমাণ করতে চায়—স্বাধীনতা কেবল ঘোষণা নয়, এটি রক্ষা করার জন্যও লড়াই চলে প্রতিনিয়ত। এই লড়াইয়ে প্রবাসের বুকে গড়ে উঠুক আরও এমন সংগঠন, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে নিয়ে যাবে একাত্তরের দীপ্ত চেতনা।
 

অভিমত থেকে আরো পড়ুন