https://www.prothomalony.com/

14006

north-america

উত্তর আমেরিকা

মমদানি ও ইলন মাস্কের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি, আইন কি বলে?

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫ ০২:০৮

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আলোচনায় উঠে এসেছে নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক মেয়রপ্রার্থী জোহারান মমদানি ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মমদানি যদি অভিবাসন বিভাগ আইসিকে সহযোগিতা না করেন, তবে তাকে গ্রেফতার ও নির্বাসিত করা হতে পারে। পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেন, ইলন মাস্ক করছাড় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে পারেন।

জানা গেছে, মমদানি জন্মগ্রহণ করেন উগান্ডার কাম্পালায়। তিনি  সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন। ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ইলন মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নিয়ে কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ২০০২ সালে নাগরিকত্ব লাভ করেন। যদিও তার শুরুর সময়কার ভিসা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে তিনি বলেছেন, সবসময় বৈধ ভিসার মাধ্যমেই কাজ করেছেন।

মমদানির বিরুদ্ধে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগ্লস অভিযোগ তুলেছেন, তিনি ‘হলি ল্যান্ড ফাইভ’ নামক একটি সংগঠনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। যেটি ২০০৮ সালে হামাসকে অর্থ সহায়তার অভিযোগে দণ্ডিত হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি চান, মমদানির বিরুদ্ধে ডিন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব বাতিলের তদন্ত শুরু হোক। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র মতাদর্শ বা অতীতের বক্তব্যের কারণে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করার সুযোগ আইনে নেই।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়গুলো স্পষ্টভাবে বলে, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেবলমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শ, মতপ্রকাশ বা রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগের ভিত্তিতে বাতিল করা যায় না। যদি না নাগরিকত্বের সময় তিনি কোনো অপরাধ গোপন করে থাকেন।

এদিকে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প অভিযোগ করেন, তার কোম্পানিগুলো সরকারিভাবে প্রাপ্ত ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল, এবং নতুন বিল পাসের পর সেই সুবিধা বন্ধ হলে তাকে ‘নিজ দেশে ফিরে যেতে’ হতে পারে। যদিও মাস্ক এখনো এমন কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন যা তাকে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব হুমকি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত। কারণ মার্কিন আইন অনুযায়ী, জন্মসূত্রে না হলেও যারা নিয়ম মেনে নাগরিকত্ব পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য গোপন করেছেন। অন্যথায়, এমন উদ্যোগ আদালতে টিকবে না।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন