https://www.prothomalony.com/

13950

north-america

উত্তর আমেরিকা

আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২, মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৫ ০৩:৪১

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইস) হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে অভিবাসীদের উপর ব্যাপক ধরপাকড় এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার ফলে মৃত্যুর হার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ, এক কিউবান নাগরিকের মৃত্যু আইস হেফাজতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২-তে পৌঁছে দিয়েছে।

৭৫ বছর বয়সী ওই কিউবান নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি কংগ্রেসকে জানানো হলেও, আইস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য প্রকাশ করেনি। সংস্থাটি সাধারণত মৃত্যুর ঘটনা দেরিতে জানায়। ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ১২ জন অভিবাসন বন্দী মারা গেছেন, যার মধ্যে অন্তত দুজন আত্মহত্যা করেছেন।

বর্তমান অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে কয়েকজন জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ মাসগুলোতে মারা যান। তবে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালে হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


সাম্প্রতিক দুটি মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কানাডার নাগরিক ৪৯ বছর বয়সী জনি নভিয়েলো ২৩ জুন মায়ামির একটি বন্দিশালায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যান এবং পরে মারা যান। অপরদিকে, ৭ জুন আটলান্টায় ৪৫ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক জেসুস মোলিনা-ভেয়া’র মরদেহ গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর তদন্ত এখনো চলমান।

নভিয়েলোর মৃত্যুর ঘটনায় কানাডা সরকার উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, কানাডীয় কনসুলার কর্মকর্তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরুরিভাবে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয়। তার পরও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে আরও ১৬৮ বিলিয়ন ডলার এই খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার অভিবাসন আটক অভিযান চালানোর ফলে বন্দিশালাগুলোর উপর ভয়াবহ চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৫৬ হাজার ৩৯৭ জন অভিবাসী হেফাজতে রয়েছেন। যা আইস'র ধারণক্ষমতার চেয়ে ১৪০ শতাংশ বেশি।

আমেরিকানস ফর ইমিগ্রান্ট জাস্টিস’-এর লিটিগেশন ও অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পল চাভেজ বলন, আমি আমার ২০ বছরের পেশাজীবনে এমন করুণ অবস্থা আগে দেখিনি। আগেও পরিস্থিতি ভালো ছিল না, তবে এখন তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই আগ্রাসী নীতি বন্ধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন