https://www.prothomalony.com/
13813
north-america
আয়ারল্যান্ডের গ্যালওয়ের টুয়াম শহরে একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে মিলেছে ৭৯৬ শিশুর মরদেহের চিহ্ন। ‘বন সেকুর মাদার অ্যান্ড বেবি হোম’ নামক অবিবাহিত মায়েদের জন্য পরিচালিত একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১৯২৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এসব শিশুর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
এই ভয়াবহ সত্য উন্মোচনের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ক্যাথরিন কোরলেস। তার দীর্ঘদিনের গবেষণায় জানা যায়, মোট ৭৯৮ শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল এই হোমে। অথচ মাত্র দু’টি শিশুর কবরের অস্তিত্ব পাওয়া যায় নথিপত্রে। বাকি শিশুদের গুম করে রাখা হয় পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে। যেটিকে স্থানীয়ভাবে বলা হতো ‘দ্য পিট’।
জানা গেছে, সন্তান জন্মের পর এসব মায়েদের থেকে নবজাতকদের ছিনিয়ে নেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জোর করে দত্তক দেওয়া হতো। অনেক শিশু অপুষ্টি, অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা যেত। মৃত্যুর পর কবর না দিয়ে তাদের মরদেহ ফেলে দেওয়া হতো ওই ট্যাংকে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো, শিশুদের অধিকাংশকেই মৃত্যুর পর কবর না দিয়ে একটি পুরনো সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে ওই সেপটিক ট্যাংকের অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত করা হলেও সরকারিভাবে তদন্ত শুরু হয় ২০১৪ সালে।
প্রায় এক দশক আইনি জটিলতার পর ২০২২ সালে আয়ারল্যান্ডের সংসদ একটি আইন পাশ করে, যাতে এই গণকবরে খনন কাজ চালানো যায়। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই খনন প্রকল্পের আওতায় দুই বছরের মধ্যে মরদেহ শনাক্ত করে তাদের সম্মানজনক দাফন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের প্রিয়জনদের অন্তত একটি সম্মানের জায়গায় স্থান দেওয়া যাবে। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী আনেট ম্যাককেই বলেন, আমার মা মার্গারেট ও’কনর ধর্ষণের শিকার হয়ে ১৭ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেন। সেই সন্তান মারা যাওয়ার খবর তাকে জানানো হয় এই নির্মমভাবে—তোমার পাপের সন্তান মারা গেছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন