https://www.prothomalony.com/

13772

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুদ্ধের দামামা, শান্তির অপমৃত্যু, মানব সভ্যতা কি নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৫ ০১:৩৮

বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে মনে হয়, ইতিহাস যেন বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে। যুদ্ধের দামামা আবারও বেজে উঠেছে, শান্তির প্রচেষ্টা একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত গোটা বিশ্বের বিবেককে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে—মানুষ কি কখনো শান্তি শিখবে না?

ইসরায়েল ইরানে হামলা করেছে, ইরান পাল্টা জবাব দিয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধের বলি কেবল শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বা রাজনীতিকরা নন, প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ—যাঁরা এই সংঘাতের কোনো পক্ষ নন। ধ্বংস হচ্ছে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুল—বেঁচে থাকার ন্যূনতম অবলম্বনগুলো। ইতিহাসের প্রতিটি যুদ্ধের মতো এখানেও একই নির্মম চিত্র—ক্ষমতার লড়াইয়ে বলি হচ্ছে নিরপরাধ মানুষ।

বিশ্ব রাজনীতির চাকা যেন ঘুরছে বারুদের গন্ধে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন আর কেবল এই দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে, এমনকি বিশ্বজুড়েই। তেলের দাম, খাদ্য নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি—সবকিছুই এই সংঘাতের অদৃশ্য আগুনে পুড়ছে।

আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র—পারমাণবিক বোমা, ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র—যেগুলো মুহূর্তেই লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে সক্ষম। কোনো উন্মাদ সিদ্ধান্ত, অদূরদর্শী নেতৃত্ব বা উগ্র প্রতিশোধপ্রবণতায় পুরো মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে—মানবতা কি এতটাই অন্ধ হয়ে পড়েছে? প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, শিল্প, স্থাপত্য—যা কিছু আমরা এতদিন ধরে গড়ে তুলেছি, এই যুদ্ধের আগুনে যদি তা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে এই অর্জনেরই বা মূল্য কী?

বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশগুলো একদিকে শান্তির কথা বলে, অন্যদিকে অস্ত্র বাণিজ্যে ব্যস্ত। এই দুষ্টচক্র ভাঙবে কে? শান্তি আলোচনার নামে রাজনৈতিক নাটক চলছে, কিন্তু আন্তরিক প্রয়াস কোথায়?

জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন, শান্তিকামী নাগরিক সমাজ সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করছে। যুদ্ধ কি কেবল প্রতিশোধের ভাষা? যুদ্ধ কি শক্তির একমাত্র পরিচয়? যদি তাই হয়, তাহলে সভ্যতার এতদিনের অর্জন, নৈতিকতা ও শিক্ষা—all in vain!

আজকের যুদ্ধ কেবল একটি অঞ্চলের সংকট নয়—এটি বৈশ্বিক খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও শরণার্থী প্রবাহের কারণ। শিশুদের নিরাপদ শৈশব, মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন—সবকিছুই প্রশ্নের মুখে।

এখনো সময় আছে। এখনো মানব সভ্যতাকে রক্ষা করার সুযোগ আছে। বিশ্ব নেতাদের উচিত অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরা। পারমাণবিক শক্তির খেলা বন্ধ করে শান্তির টেবিলে বসাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

আমাদের শিখতে হবে—শক্তি নয়, শান্তিই প্রকৃত বিজয়। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যুদ্ধ কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না।

এই বার্তাই আজ সবচেয়ে জরুরি—যুদ্ধ নয়, শান্তি হোক মানবতার পথ। কারণ এই পৃথিবী যুদ্ধের জন্য নয়, মানুষের জন্য।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন