https://www.prothomalony.com/
13668
north-america
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৫ ১৫:০১
গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে। বুধবার (৪ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটে ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে তাতে আপত্তি জানায় এবং প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি।
প্রস্তাবটিতে গাজার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং ইসরায়েলের ওপর চাপ দেওয়া হয় যেন তারা গাজার ২১ লাখ মানুষের জন্য সব ধরনের ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে বাধা প্রত্যাহার করে নেয়। একইসঙ্গে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাপ্তি চাওয়া হয়।
ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডরোথি শিয়া বলেন এই প্রস্তাব ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে এবং হামাসের মতো গোষ্ঠীকে আরও উৎসাহিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল যুদ্ধবিরতির আগে হামাসকে অবশ্যই সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে, অস্ত্র জমা দিতে হবে এবং গাজা ছাড়তে হবে। কিন্তু প্রস্তাবে এসব শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ বলেন, এটি ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় থাকবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব পালন আবারও একটি সদস্য রাষ্ট্রের একক সিদ্ধান্তে বাধাগ্রস্ত হলো।
প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর জানান, তারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একই ধরণের একটি প্রস্তাব তুলবেন। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবগুলো আইনি বাধ্যবাধক না থাকলেও তা বিশ্বজনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার প্রায় সব খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জনগণ এখন পুরোপুরি আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১২০০ মানুষকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। এখনও ৫৮ জন জিম্মি অবস্থায় রয়েছে যাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন গাজায় খাদ্যের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষজন প্রতিদিন গুলিবিদ্ধ হচ্ছে এবং নিহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত বৃহৎ পরিসরে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন