https://www.prothomalony.com/

13502

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকিতে বিপাকে পোশাক খাত, ঝুঁকিতে রপ্তানি আয়

চাকরি হারানোর শঙ্কায় লাখো শ্রমিক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৫ ০২:০৮

২০২৫ সাল বাংলাদেশের জন্য শুরু থেকেই নানা সংকটে ঘেরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝখানে এবার নতুন করে চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পোশাকপণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মুখে এই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে যেকোনো সময় শুল্ক আবার কার্যকর হতে পারে—এই আশঙ্কায় রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প।

‘চাকরি থাকবে তো?’

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল আরও কয়েক গুণ মানুষ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু পোশাক কারখানাগুলোর জন্য নয়, কোটি মানুষের জীবিকার জন্য হুমকি।

শ্রমিকরা জানান, তারা রীতিমতো চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন। প্রতিদিনই কোন না কোন গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ার খবর পাচ্ছেন। নিজেদেরটা কখন বন্ধ হয়, সেটা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।

রপ্তানির ৮৫ শতাংশই পোশাক

বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। এর একটি বড় অংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। তাই মার্কিন বাজারে যে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রবৃদ্ধির পর যখন অর্থনীতি কিছুটা স্থবির, তখনই এলো এই শুল্ক হুমকি। এটি প্রবৃদ্ধিকে আরও চাপে ফেলবে।বিশ্বব্যাংক এরই মধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী দুই বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে।

চাপে সরকারও

পোশাক খাতের পাশাপাশি সরকারও এখন নানা চাপের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভর্তুকি কমাতে ও জ্বালানির দাম বাড়াতে চাপ দিচ্ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, একদিকে বৈদেশিক চাপ, অন্যদিকে রাজস্ব সংকট—সব মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতি এখন অনেকটাই ঝুঁকিতে।

আশার আলো কতটা টিকে থাকবে?

রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তন এসেছে। অনেকে আশা করছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ নতুন সুযোগ তৈরি করবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপ সে আশায় বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, এখনই প্রয়োজন কূটনৈতিক তৎপরতা, বহুমুখী রপ্তানি বাজার খোঁজা ও নীতিনির্ধারণে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি। তা না হলে তৈরি পোশাক খাতের এই সংকট শুধু শিল্প নয়, গোটা অর্থনীতির জন্যই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন