https://www.prothomalony.com/
13376
north-america
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৫ ০৩:৩৯
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গত শনিবার (মে ১১) যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তি সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এটি অঞ্চলের সমস্যাগুলোর সমাধানে একটি নতুন সূচনা করবে। এক্সে পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব এবং অঞ্চলে শান্তির জন্য সক্রিয় ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞ। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, যা আমরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে গ্রহণ করেছি।’
দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শেহবাজ শরিফ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান মনে করে, এটি অঞ্চলের দীর্ঘ দিনের সমস্যাগুলোর সমাধানের পথে এক নতুন সূচনা, যা এত দিন শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’
এর আগে, পাকিস্তানের সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও শেহবাজ শরিফের বড় ভাই নওয়াজ শরিফ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘পাকিস্তান একটি শান্তিপ্রিয় দেশ এবং শান্তিকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে প্রয়োজনে আত্মরক্ষা করতেও জানে।’
পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) প্রধান শরিফ দেশের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ করুণায় আজ পাকিস্তান গর্বিত। আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির সিন্ধু এবং পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।’
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, ‘পাকিস্তান সব সময়ই সংলাপ ও কূটনীতিকে শান্তির একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হিসেবে অনুসরণ করেছে এবং যুদ্ধ, সহিংসতা ও আগ্রাসন কখনোই সমাধান হতে পারে না।’
তিনি এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তান যখন যুদ্ধবিরতি ও সংলাপে সম্মত হয়েছে, তখন আমরা এটিকে কূটনৈতিক জয়ের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাগত জানাই। এই ঐতিহাসিক অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের ভূমিকার প্রশংসা করি। একজন পাকিস্তানি হিসেবে আমি আমাদের জনগণ, আমাদের সেনাবাহিনী ও বিশেষ করে আমাদের বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গর্বিত।’
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান গোহর আলী খান বলেন, ‘এটি ইতিবাচক যে, শান্তি আবারো অঞ্চলে ফিরে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যেভাবে জবাব দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের গর্বিত করেছে।’
‘আমাদের জবাবই ভারতকে শান্তির প্রতীক সাদা পতাকা তুলতে বাধ্য করেছে।’ জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।
পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ, সেনাপ্রধান জেনারেল মুনির, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী ও আমার পিতা নওয়াজ শরিফ জাতিকে গর্বিত করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, পাকিস্তান নিরাপদ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের হাতে রয়েছে।’
এর আগে, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার জাতিকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি এক্সে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও ভারত অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তান সব সময়ই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে- নিজের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিনিময়ে নয়!’
যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সীমান্ত অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। তবুও এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন