https://www.prothomalony.com/
13367
north-america
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৫ ০০:৪৮
পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট এখন আর শুধু কোনো একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়—এটি বৈশ্বিক। এই সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন সম্মিলিত পদক্ষেপ। প্রত্যেকেই তাঁর নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্ববান ভূমিকা পালন করলে নদ-নদী, বন-বনানী, জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি আনা সম্ভব। এভাবেই পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে।
এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত পরিবেশ সংগঠক, ‘ওয়াটারকিপার্স অ্যালায়েন্স’–এর বোর্ড সদস্য এবং ‘ধরা’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল। তাঁর সম্মানে নিউইয়র্ক সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এই সভার আয়োজন করে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়োজিত সংগঠন “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা—ধরা”।
১১ মে, রবিবার, নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে অবস্থিত প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সমন্বয়ক ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সেলিনা উদ্দিন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী।
সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। আলোচকদের ভাষ্যে উঠে আসে—পরিবেশ সুরক্ষায় প্রবাসীদের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা, নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তোলার গুরুত্ব, এবং সাংগঠনিকভাবে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব রূপরেখা।
আলোচনায় টাইম টিভি ও বাংলা পত্রিকার সিইও আবু তাহের বলেন, “বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেক কিছু করার আছে। সচেতনতা তৈরি, অর্থনৈতিক সহায়তা ও কণ্ঠস্বর তোলার মাধ্যমে প্রবাস থেকে অনেক বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। 'ধরা'-এর মতো উদ্যোগগুলো সংগঠিত হলে, টাইম টিভি পরিবেশ বিষয়ক যেকোনো উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
লেখক-সাংবাদিক রওশন হক বলেন, “সাংবাদিকতার নৈতিক জায়গা থেকে পরিবেশ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমার পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। দেশে যেমন তা করেছি, প্রবাসে বসেও দায়িত্ব অনুভব করি।” তিনি বলেন, “‘ধরা’ পরিবেশ আন্দোলনের জন্য একটি ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম হতে পারে, যা প্রবাসী সচেতনদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগে রূপ নিতে পারে।”
আলোচনায় অংশ নেন তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকান সুমাইয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমি আমেরিকায় জন্মেছি ও বড় হয়েছি। কিন্তু আমার রক্তে আছে বাংলাদেশ। আমার পিতৃভূমির পরিবেশ বিপর্যয় আমাকে ভাবায়। আমি চাই আমার প্রজন্ম এই দায়বদ্ধতা অনুভব করুক এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় হোক।” তিনি তার নিজস্ব পেশাগত দক্ষতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে চান বলে জানান।
লেখক ও সাংবাদিক রহমান মাহবুব বলেন, “শরীফ জামিলের মতো সাহসী ও দূরদর্শী মানুষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে পরিবেশ আন্দোলন চলছে, সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে হবে। নদী দখল, পাহাড় কাটাসহ যেসব পরিবেশবিরোধী তৎপরতা চলছে, তার বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলতে হবে দেশ–বিদেশ মিলেই।”
সভায় অংশ নেন বর্ষীয়ান পরিবেশবিদ সৈয়দ ফজলুর রহমান। তিনি সংগঠনের কাঠামো, পরিকল্পনা ও সদস্য সংগঠনের অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি নিয়ে প্রস্তাবনা দেন। রাশিদা আখতার “বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় নদী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছি। এখন প্রবাসে থেকেও সাংগঠনিকভাবে এ কাজে যুক্ত হতে আগ্রহী।”
শরীফ জামিল তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের নদ-নদীর বিপর্যয়ের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নদীর প্রবাহ বন্ধ হচ্ছে, ভূমিদস্যুদের দখলে যাচ্ছে পানিসম্পদ, কারখানার বর্জ্যে দূষণ বাড়ছে। এসব শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “লবণচাষিদের ঘিরে এখন একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ছক তৈরি হচ্ছে, যেখানে বহু দরিদ্র উপকূলবাসীর জীবন-জীবিকাই হুমকির মুখে পড়েছে। এই বাস্তবতা সবাইকে জানাতে হবে, এবং যথাযথ নীতি ও উদ্যোগ নিয়ে তা মোকাবিলা করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা উদ্দিন বলেন, “ধরা অচিরেই কিছু সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মসূচি ঘোষণা করবে। নিউইয়র্কসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হবে। আলোচনা সভা, সেমিনার ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটিকে যুক্ত করতে চাই।” তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
১১ মে ছিল আন্তর্জাতিক মা দিবস। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত মা–দের সম্মানে কেক কাটা হয় এবং প্রতিটি মাকে গোলাপ ফুল দিয়ে সম্মান জানানো হয়। অনেকে এই মুহূর্তকে আবেগে ভরা ও প্রেরণামূলক বলে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাইম টিভি ও বাংলা পত্রিকার সিইও আবু তাহের, রাশিদা আখতার, শাহানা বেগম, সুমাইয়া চৌধুরী, জাকির হোসেইন, তাজুল ইসলাম, রওশন জাহান, রওশন হক, সৈয়দ ফজলুর রহমান, নাসিমা ইয়াসমিন, গুলশান চৌধুরী, রহমান মাহবুব, রোকেয়া দীপা, সায়ান সিদ্দীক প্রমুখ।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন