https://www.prothomalony.com/

13362

north-america

উত্তর আমেরিকা

অবশেষে পেনশন সুবিধা কাট করতে তৎপর হলেন হাউস রিপাবলিকানরা

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৫ ১১:০৫

হাউস রিপাবলিকানরা এখন বড় কর ও খরচ কমানোর পরিকল্পনার টাকা জোগাড় করতে ফেডারেল কর্মীদের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটে বড় পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন।

হাউস ওভারসাইট কমিটি গত সপ্তাহে একটি পরিকল্পনা পাস করেছে, যাতে আগামী ১০ বছরে রিটায়ারমেন্ট খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল কর্মী সংখ্যা কমানোর বহুমুখী প্রচেষ্টার সাথে কয়েক মাস ধরে লড়াই করার পর, সরকারি কর্মচারীরা এখন আরেকটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনার মুখোমুখি হচ্ছেন; যা তাদের আরও বেশি সংখ্যক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করতে পারে।

ফেডারেল কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থা সংস্কার করার চেষ্টা রিপাবলিকানদের দীর্ঘ দিনের লক্ষ্য, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও চেয়েছিলেন। যদিও তখন সেই উদ্যোগ খুব একটা এগোয়নি, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেড়েছে।

‘তারা কর্মচারীদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেবে এবং এরপর সুবিধার হিসাবের পদ্ধতি বদলে দিয়ে সুবিধার পরিমাণ কমিয়ে দেবে।’ -এমনটাই বলেছেন আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের নীতিনির্ধারক জ্যাকলিন সাইমন।

ইউনিয়নের মতে, এই কাটছাঁটের ফলে বহু কর্মচারী যাঁরা অবসরের যোগ্য, তারা বর্তমান সুবিধা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন।

রিপাবলিকানদের এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এটি পূর্ণ হাউস ও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। কমিটির চেয়ারম্যান রিপ. জেমস কোমার বলেন, ‘এই উদ্যোগটি আমেরিকানদের করের অর্থ সাশ্রয় করার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই সব সুবিধার ব্যয়ভার বহন করে দেশের পরিশ্রমী করদাতারা ও ক্রমবর্ধমানভাবে সরকারি ঋণ।’

তবে সব রিপাবলিকান এই প্রস্তাবের পক্ষে নন। ওহাইওর প্রতিনিধি মাইক টার্নার ডেমোক্র্যাটদের সাথে একযোগে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি এমন কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করি না; যেখানে ফেডারেল কর্মচারীদের অর্জিত পেনশন থেকে অর্থ কেটে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হয়। এই পেনশনগুলো দান নয়- এগুলো তাঁদের নিষ্ঠার বিনিময়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি।’

কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হল- অনেক বর্তমান বেসামরিক ও ডাক কর্মীদের রিটায়ারমেন্ট তহবিলে বেতনের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ উন্নিত করা। ২০১৪ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্তরা সাধারণত ০ দশমিক ৮ শতাং বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ অবদান রাখতেন, যেখানে সাম্প্রতিক নিয়োগপ্রাপ্তরা সাধারণত ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখেন।

যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এখনো সোশ‍্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট বয়স্ক হননি, তাঁদের জন্য বর্তমানে যে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়, সেটি বাতিল করা হবে। এছাড়া রিটারমেন্ট ভাতার হিসাব করার জন্য কর্মীদের সর্বোচ্চ উপার্জনের তিন বছরের গড়ের পরিবর্তে পাঁচ বছরের গড় ব্যবহার করা হবে, যা বার্ষিক হাজার হাজার ডলার সুবিধা কমাতে পারে।

তবে কিছু নির্দিষ্ট পেশার কর্মীরা- যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার- এই পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না। যদিও তাঁরাও ৫৬ বা ৫৭ বছর (পদের ওপর নির্ভর করে) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত অবসর সুবিধা পাবেন না।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘যেসব নতুন কর্মী ‘অ‍্যাট উইল’ অর্থাৎ চাকরির নিশ্চয়তা কম থাকা অবস্থায় চাকরি করতে রাজি হবেন না, তাঁদের জন্য ৫ শতাংশ অতিরিক্ত পেনশন অবদান বাধ্যতামূলক করা হবে।

ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব ফেডারেল কর্মীদের মধ্যে বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এএফজিইর কাউন্সিল অফ প্রিজন লোকালসের সভাপতি ব্র্যান্ডি মুর হোয়াইট বলেন, ‘মানুষ এখন খুব হতাশ। তারা মনে করছে, এটা যেন এক ধরনের টোপ দেখিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে।’

তাঁর সংগঠন ৩০ হাজারের বেশি কারাগারের কর্মচারী ও কর্মকর্তা প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও তাঁর সদস্যদের অনেকেই এই নিয়মে সরাসরি প্রভাবিত হবেন না, তবুও যারা ৫৭ বছর হওয়ার আগেই অবসর নেবেন, তাঁরা অতিরিক্ত অর্থ পাবেন না। অনেক কর্মী ৪০’-এর দশকে বা ৫০’-এর শুরুর দিকে অবসর নেন, ফলে এই সুবিধা হারানো তাঁদের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।

সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ‘এএফজিই’ কাউন্সিল ২২০’-এর প্রেসিডেন্ট জেসিকা লা পয়েন্ট বলেন, তাঁদের সংস্থার এক চতুর্থাংশ কর্মী এখন অবসরের যোগ্য। অনেকেই তাঁকে ফোন করে জানাচ্ছেন, তাঁরা এখনই অবসর নিতে চান, যেন বর্তমান সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘আমার সহকর্মীরা বলছেন, ‘এই ধাক্কাটা আমি সামলাতে পারব না।’

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন