https://www.prothomalony.com/
13360
north-america
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নন-সিটিজেনদের জন্য উদ্বেগজনক এক নতুন ভিসা নীতি চালু করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ‘কেচ অ্যান্ড রিভোক’ নামে এই নীতির আওতায় এখন থেকে ন্যূনতম আইন লঙ্ঘন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মতামত প্রকাশ করলেই বাতিল হয়ে যেতে পারে ভিসা।
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে এ নীতির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ভিসা হলো একটি বিশেষ সুবিধা, অধিকার নয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী, ওয়ার্ক পারমিটধারী, গ্রীন কার্ড আবেদনকারীসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু নন-সিটিজেনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইমিগ্রেশন বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ না রেখেই শুধুমাত্র একটি ট্রাফিক টিকিট, পার্কিং লঙ্ঘন, মেট্রো ট্রানজিটে ভাড়া না দেওয়া, অথবা প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার মতো ঘটনার জন্যও ভিসা বাতিল করা হতে পারে।
এই নীতির অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে। যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষক অ্যারন রেইখলিন-মেলনিক একে ‘ভয়ংকর দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ওভারস্পিডিংয়ের মতো ছোটখাটো কারণে ভিসা বাতিলের নজির রয়েছে। এখন এর মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের উদার গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
নতুন এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সবাইকে আইনি সচেতনতা ও ব্যক্তিগত আচরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন