https://www.prothomalony.com/
13359
north-america
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবারের ওই বৈঠকে শহরের ফেডারেল অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি করেন অ্যাডামস। তকে ট্রাম্প একে হালকাভাবে নিয়ে বলেন, তিনি হ্যালো বলতে এসেছিলেন... আমার মনে হয় তিনি আমাকে ধন্যবাদ জানাতেই এসেছিলেন।
এদিকে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মেয়র অ্যাডামস কি নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে গিয়েছিলেন? না কি ট্রাম্পের ‘গুড বুকে’ জায়গা পাওয়াই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য? বৈঠকের সময়কালটিও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। একই দিনে ফেডারেল প্রসিকিউটররা অ্যাডামসের বিরুদ্ধে বাতিল হওয়া দুর্নীতির মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু অনুসন্ধান নথি প্রকাশ করে।
আদালতের আদেশে তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ইমেল ও অন্যান্য তথ্য তল্লাশির অনুমতি মঞ্জুর করেন তিনজন ভিন্ন ফেডারেল বিচারক। যদিও এসব নথিতে নতুন কোনো বিস্ফোরক তথ্য নেই। তবুও এসব অ্যাডামসের প্রচারণা তহবিল এবং বিলাসবহুল ভ্রমণের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে সন্দেহকে পুনরায় জাগিয়ে তুলেছে।
বৈঠকের পর থেকেই নিউইয়র্কের রাজনীতিকরা অ্যাডামসের অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন। স্টেট সিনেটর জেলনর মাইরি বলেন, এরিক অ্যাডামস স্পষ্ট করেছেন তিনি নিউইয়র্ক সিটির জন্য লড়াইয়ের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগ্রহ পাওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার আরও একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেন, তিনি এমনভাবে আত্মসমর্পণ করছেন। কেউ কল্পনাও করেনি একজন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এভাবে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। এতে নিউইয়র্কবাসীর কোনো লাভই হয়নি।
এর আগেও অ্যাডামস অভিবাসন প্রয়োগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতায় সম্মতি দেন। আইসিই এজেন্টদের জন্য রাইকার্স দ্বীপ পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রস্তাব তিনি মেনে নিয়েছিলেন। এই অবস্থান তাকে নিউইয়র্কের অভিবাসীবান্ধব মহলে বিতর্কিত করে তোলে।
তবে মেয়র অ্যাডামস নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেছেন, শুধু ভালো লাগছে বলেই আমি চিৎকার চেঁচামেচির খেলায় নামতে পারি না। আমাকে এই শহরের জন্যই কাজ করতে হবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজের পুনঃনির্বাচনের লড়াইয়ে মুখ বাঁচাতে এবং ফেডারেল তহবিল আদায়ের আশায় অ্যাডামস এখন ট্রাম্পপন্থী এক ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছেন। যা তার দলের ভেতরে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
নিউইয়র্কের মতো উদারপন্থী শহরের মেয়রের পক্ষে হোয়াইট হাউসে এমন সফর বিরল হলেও, অ্যাডামস তা করেছেন কোনও দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি বা ফলাফল ছাড়াই। বরং তিনি এখন আরও রাজনৈতিক চাপ এবং জনসমর্থনের প্রশ্নের মুখোমুখি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন