https://www.prothomalony.com/
13352
north-america
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৫ ১২:৩৮
২০২৫ সালের শুরুর দিক থেকেই মর্টগেজ হারের উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ করা যাচ্ছে, যা সম্ভাব্য বাড়ি ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা এই স্বস্তিতে ছায়া ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত মর্টগেজ হারের গড় ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৭ দমশিক শুন্য ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের শেষ ভাগে যা ছিল তার চেয়ে প্রায় এক শতাংশ কম। মর্টগেজ রেটের প্রতিটি শতাংশ হ্রাস বাড়ি ক্রয় ব্যয়ের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে, যা হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে বলে জানিয়েছে রকেট মর্টগেজ।
যদিও হারের পতন স্বস্তি দিচ্ছে, তবুও বাজারে বাড়ির স্বল্পতা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলছে।
হোয়াটন স্কুলের অধ্যাপক লু লিউ বলেন, ‘এখনও ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন, তবে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে কি না- তা নিশ্চিত না।’
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্কনীতি ও ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ার জেরোম পাওয়েলের সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সতর্কবার্তা ভবিষ্যতে সুদের হারে উর্ধ্বগতি আনতে পারে। এর ফলে ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের উপর চাপ পড়ছে, যা মর্টগেজ হারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
জাতীয় রিয়েলটরস অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মুখ্য অর্থনীতিবিদ জেসিকা লাউটজ জানান, মর্টগেজ রেটে স্পষ্টভাবে কমতি এসেছে। তবে বাজার এখনও সংকুচিত এবং প্রচুর নতুন ঘরের চাহিদা রয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন বাজারে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি মার্চ মাসে প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে। একে ‘লক-ইন ইফেক্ট’ বলা হচ্ছে- কারণ বর্তমান গৃহমালিকরা আগের কম হারে মর্টগেজ নিয়ে বসবাস করছেন এবং উচ্চ হারে নতুন ঋণ নিতে আগ্রহী নন। ফলে বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা কমে গেছে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এখনই বাড়ি কেনা যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির রিয়েল এস্টেট অর্থনীতিবিদ কেন জনসন বলেন, ‘বাড়ির দাম স্থির থাকবে বা বাড়তে পারে। বাজারে এখনও বাড়ির ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে দাম ধসে পড়ার আশঙ্কা কম।’
এছাড়াও, ভবিষ্যতে মর্টগেজ হার আরও কমলে বর্তমান ক্রেতারা রিফাইন্যান্সের সুযোগ নিতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খরচ আরও কমিয়ে দেবে।
জনসনের ভাষায়, ‘মর্টগেজ রেটে আপনি শুধু ‘‘এনগেজড’’ হন, আর রিফাইন্যান্সের সঙ্গে হয় বিয়ে- অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলের সুযোগ থাকে।’’
তাই, কেউ যদি বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, তবে এই সময়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে বলে মত দিচ্ছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন