https://www.prothomalony.com/
13343
north-america
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৫ ১২:০৪
বস্টনের একটি মার্কিন আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের লিবিয়ায় অভিবাসী প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আদালতের এই আদেশে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি অভিবাসীদের ন্যায্য বিচার প্রাপ্তির অধিকারের পরিপন্থী এবং এটি পূর্বে দেওয়া আদালতের একটি আদেশকে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে অভিবাসীদের আইনজীবীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিবিয়ায় অভিবাসী বহনের জন্য ফ্লাইট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিচারক ব্রায়ান মারফি তাদের যুক্তির প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে এই নিষেধাজ্ঞা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, অভিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় লিখিত নোটিশ এবং তাদের পক্ষে আবেদন করার একটি বাস্তব সুযোগ না দিলে এ ধরনের প্রত্যাবাসন আইনবিরুদ্ধ।
এই আদেশের আগেই, দুটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, উত্তর আফ্রিকার সংঘাতপীড়িত দেশ লিবিয়ায় অভিবাসী পাঠানো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তুতি চলছে এবং এটি সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক বিভাজন এবং সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে রেখেছে।
এই পরিস্থিতিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দিবেইবা এক বিবৃতিতে বলেন, লিবিয়া কোনোভাবেই অন্য দেশের অভিবাসন সমস্যার বোঝা বহন করবে না। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, কোনো প্রেক্ষাপটেই অভিবাসী প্রত্যাবাসনের গন্তব্য হতে রাজি নই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে জিজ্ঞেস করুন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুয়ান্ডা, বেনিন, অ্যাঙ্গোলা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, এসওয়াতিনি ও মলডোভার সঙ্গে অভিবাসী প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন অভিবাসন নীতির এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করার প্রচেষ্টা, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছে, এসব দেশে অভিবাসীদের পাঠানো হলে তাদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা সেই উদ্বেগকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন