https://www.prothomalony.com/
13331
north-america
ট্রাম্প প্রশাসন টেক্সাসের ফেডারেল বিচারকের কাছে গর্ভপাতের ওষুধ মাইফেপ্রিস্টোনের অ্যাক্সেস সীমিত করার লক্ষ্যে করা মামলাটি খারিজ করার জন্য অনুরোধ করছে।
মামলাটি শুরু হয়েছিল ডেমোক্র্যাট সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়। বিচার বিভাগের আদালতে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, ‘আইডাহো, মিসৌরি ও কানসাসের সঙ্গে টেক্সাসের কোনো সম্পর্ক নেই, যেখানে মামলাটি দায়ের হয়েছে।’ তাই তাদের যুক্তি, এই অঙ্গরাজ্যগুলোর কোনো আইনগত অধিকার নেই খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিআই) বিরুদ্ধে এই মামলায় অংশ নেওয়ার, যেখানে এফডিআইয়ের নিয়মানুযায়ী মাইফেপ্রিস্টোন অনলাইনে ও ডাকের মাধ্যমে পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালতে লিখেছে, ‘এই মামলার বাইরে অঙ্গরাজ্যগুলো স্বীকার করেছে যে, তাদের দাবির সঙ্গে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা আরও বলেছে, ‘‘প্রাথমিক মামলাকারীদের মামলার বৈধতা আদালত অস্বীকার করেছে, তারা নিজেরা মামলা তুলে নিয়েছে, আর এখন যেসব রাজ্য মামলায় আছে তাদের দাবিরও এই জেলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’’ তাই এই মামলা টিকিয়ে রাখার সুযোগ নেই।’
রয়টার্স জানিয়েছে, তিনটি রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন স্টেট ২০১৬ ও ২০২১ সালে ওষুধের উপর বিধিনিষেধ শিথিল করে এফডিআইয়ের পদক্ষেপগুলিকে চ্যালেঞ্জ করছে, যার মধ্যে গর্ভধারণের সাত সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত মেডিকেশন অ্যাবরশনের অনুমতি দেওয়া এবং নারীদের সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা না করেই ডাকযোগে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ।
ফেডারেল আইনজীবীরা বলছেন, ‘এই মামলার জন্য উপযুক্ত ডিস্ট্রিকগুলোতে চাইলে স্টেটগুলি তাদের দাবি তুলে ধরতে পারে।’
তবে তারা আরও উল্লেখ করেন, এই মামলায় স্টেটগুলির যুক্তির দুর্বলতা রয়েছে। যেমন এফডিআইয়ের ২০১৬ সালের সিদ্ধান্তে, ওষুধটি সাত সপ্তাহের বদলে ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করার যে অনুমতি দেয়া হয়েছিল- তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনও বলেছে, ‘এফডিআইয়ের ২০১৬ সালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্টেটগুলির অভিযোগ ছয় বছরের সময়সীমার আইনের বাইরে পড়ে, তাই মামলাটি খারিজ করা উচিত।’
মূল মামলাকারীরা শুরুতে এফডিআইয়ের মাইফেপ্রিস্টোন অনুমোদন বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু নিম্ন আদালত তা খারিজ করে দেয়।
গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মাইফেপ্রিস্টোন নিষিদ্ধ বা এর প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা করছেন না।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ফেব্রুয়ারিতে ফক্স নিউজকে জানান, ট্রাম্প গর্ভপাতের ওষুধগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে একটি গবেষণার অনুরোধ করেছেন, তবে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ওষুধের ওপর নিয়ম কড়া করবেন কিনা।
এদিকে গত বছর সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতবিরোধী ডাক্তার ও চিকিৎসা সংগঠনগুলোর একটি মামলা খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, তারা এফডিএ নিয়ম চ্যালেঞ্জ করার মতো আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেনি।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর মামলাকারীরা তাদের মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে ট্রাম্প-নিযুক্ত জেলা বিচারক ম্যাথিউ কাকসমারিক মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোকে হস্তক্ষেপ করতে দেন এবং মামলা চালিয়ে যেতে অনুমতি দেন। এরপর ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্টেটগুলোর অভিযোগ খারিজের আবেদন করে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন