https://www.prothomalony.com/
13330
north-america
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৫ ০১:০০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করে ‘গেইন-অব-ফাংশন বা ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ গবেষণার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যার লক্ষ্য জীববৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণা এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে বিজ্ঞানীরা ভাইরাস বা অনুরূপ জীবাণুর সংক্রামকতা বাড়াতে বা আরও প্রাণঘাতী করে তুলতে গবেষণা করেন। যদিও এই গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতের মহামারি ঠেকাতে বা প্রতিরোধমূলক ওষুধ তৈরি সহজ হতে পারে, তবে এটি দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্কিত। কারণ, গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাবশত এমন কোন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়, যখন অনেকেই দাবি করেন যে, ভাইরাসটি চীনের উহান শহরের একটি গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও বেশিরভাগ বিজ্ঞানী এই তত্ত্বের বিরোধিতা করেন এবং বন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনাকেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন, তবুও এই তত্ত্বকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ও জনমত তৈরি হয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র উইল শার্ফ জানান, এই নির্বাহী আদেশ বিদেশে গেইন-অব-ফাংশন গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে এটি গবেষণা নিরাপত্তা ও নজরদারিতে একটি জাতীয় কৌশল প্রতিষ্ঠা করে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘গবেষণা নজরদারিতে দুর্বল বলে বিবেচিত দেশগুলো যেমন চীন ও ইরানে- এই ধরনের গবেষণায় কোনো মার্কিন অর্থায়ন করা যাবে না। এমনকি যেকোনো গবেষণা, যা ‘আরেকটি মহামারির জন্ম দিতে পারে’- সেই ক্ষেত্রেও অর্থায়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
যদিও কিছু বিজ্ঞানী এই সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত বলে মেনে নিচ্ছেন, অনেকেই সতর্ক করছেন যে, অত্যন্ত বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে জরুরি গবেষণাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। রাইস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতির বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিন ম্যাথিউস বলেন, ‘পরবর্তী মহামারির সময় যদি আমাদের কাছে গবেষণার ডেটা না থাকে, তবে চিকিৎসা বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে আমাদের সময় লাগবে।’
রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাণুবিদ রিচার্ড এব্রাইট বলেন, ‘এই ধরনের গবেষণার ভুল ব্যবহারে বা দুর্ঘটনায় নতুন মহামারি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এই নিষেধাজ্ঞা সময়োপযোগী ও জরুরি।’
ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও এনআইএইচের পরিচালক ড. জে ভট্টাচার্যও এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে একে সাহসী ও ভবিষ্যতনির্ভর উদ্যোগ বলেছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আদেশ গবেষণার উদ্ভাবন ক্ষমতা ব্যাহত না করেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং জাতির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে গবেষণার উপর একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন