https://www.prothomalony.com/
13328
north-america
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৫ ১৯:২১
ইতালির সিসটিন চ্যাপেলের ছাদে স্থাপিত চিমনি থেকে বেরিয়ে আসা কালো ধোঁয়া। এমন ধোঁয়া ইঙ্গিত দিয়েছে, ১৩৩ জন কার্ডিনাল প্রথম দিনের ভোটে নতুন পোপ নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছেন। ঐতিহ্য অনুসারে, এই ধোঁয়ার রঙের মাধ্যমেই পোপ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্বকে জানানো হয়। বৃহস্পতিবার থেকে আবারও ভোটিং শুরু হবে। সাদা ধোঁয়া ওঠা মানেই নতুন পোপ নির্বাচিত। বিশ্বের ১.৩ বিলিয়ন ক্যাথলিকের চোখ এখন ভ্যাটিকানের দিকে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রথম ভোটগ্রহণ শুরু হয় কার্ডিনালদের শপথ নেওয়ার পর। ভোট চলাকালীন সিসটিন চ্যাপেলের চিমনির আশপাশে একটানা পাহারা দিয়েছে একটি সিগাল পাখি, যা বেশ নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের। রাত ৯টা ৫ মিনিটে যখন ধোঁয়া উঠতে শুরু করে, তখন সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে উপস্থিত প্রায় ৪৫,০০০ মানুষের ভিড় থেকে ভেসে আসে জোর করতালির শব্দ। যদিও ধোঁয়ার রঙ দেখেই ভক্তরা জেনে গেছেন, তাদের অপেক্ষা করতে হবে।
পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর (গত মাসে, ৮৮ বছর বয়সে) পর এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। নতুন পোপ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই গোপন কনক্লেভ চলবে। যদিও প্রথম দিনেই পোপ নির্বাচনের আশা করা হয়নি, তবুও বিশাল জনসমাগম হয়েছিল সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে।
অনেকেই স্মরণ করছিলেন ২০০৫ সালে পোপ বেনেডিক্ট (জোসেফ র্যাজিংগার) নির্বাচনের স্মৃতি—যেটি ৩৬ ঘণ্টার কম সময়ে শেষ হয়েছিল। একজন ভক্ত বলছিলেন “আমি একটি ক্যাফেতে ছিলাম, তখন চারদিকে ‘ফাত্তো, ফাত্তো, ফাত্তো!’ (হয়ে গেছে!) ধ্বনি শোনা যাচ্ছিল,” বললেন তিনি। “তারপর আমি বাইরে বেরিয়ে সাদা ধোঁয়া দেখেছিলাম।” এ ভক্ত নতুন পোপ সম্পর্কে আশাবাদী: “আমি চাই পোপ ফ্রান্সিসের পথই যেন নতুন পোপ অনুসরণ করেন। তিনি ছিলেন প্রান্তিকদের পক্ষে, এই চেতনা যেন অব্যাহত থাকে। চার্চের ঝলমলে ধন-সম্পদের প্রদর্শন এখন আর যুগোপযোগী নয়।”
বুধবার সকালে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় প্রাক-কনক্লেভ প্রার্থনায় কার্ডিনাল জিওভান্নি বাতিস্ত্তা রে—যিনি পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াও পরিচালনা করেন—একটি বার্তা দিয়েছেন সকলের উদ্দেশ্যে। তিনি ভোটারদের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা ছেড়ে দিয়ে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সাথে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বলেছেন “আমরা এখানে পবিত্র আত্মার সাহায্য কামনা করতে এসেছি, যেন এমন একজন পোপ নির্বাচিত হয় যাঁকে এই সময়ে গির্জা ও মানবজাতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন,”। “ভালোবাসাই একমাত্র শক্তি, যা দুনিয়াকে বদলাতে পারে।”
অনেকেই বলছেন, পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। কারণ তিনি একটি বৈচিত্র্যময় এবং বিভক্ত কার্ডিন্যাল রেখে গেছেন। কেউ কেউ তাঁর সংস্কারমূলক নীতিকে সমর্থন করলেও, অনেকেই আবার তা বদলে পুরনো রক্ষণশীল চর্চায় ফিরতে চান।
কোনো কার্ডিনালই চান না যে নির্বাচন তিন দিনের বেশি গড়াক। কারণ এটি চার্চের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির ইঙ্গিত দিতে পারে। ভোটের আগে কার্ডিনালদের মধ্যে প্রতিদিন দুবার করে বৈঠক হয়েছে, যেখানে তারা ক্যাথলিক চার্চের ভবিষ্যৎ, ধর্মপ্রচারের কৌশল, ভ্যাটিকানের অর্থনীতি, পুরোহিতদের যৌন কেলেঙ্কারি, যুদ্ধ ও দরিদ্রদের প্রতি সেবার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার বাইরে ছিল—চার্চে নারীর ভূমিকা। যদিও পোপ ফ্রান্সিস এর প্রসার চেয়েছিলেন, তিনি বারবার বলেছেন, নারী কখনোই পুরোহিত হতে পারবেন না। এই প্রেক্ষাপটে, নারীদের পুরোহিত্বের দাবিতে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন ক্যাথলিক নারী সংগঠন সম্প্রতি রোমে সমবেত হয়ে সমাবেশ করেছেন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন