https://www.prothomalony.com/

13325

north-america

উত্তর আমেরিকা

স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরার জন্য ১ হাজার ডলার ভাতা দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৫ ০৪:৫৪

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য নতুন এক নীতিমালা ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই নীতির আওতায়, অভিবাসীরা যদি স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তারা সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ১ হাজার ডলার ভাতা ও যাতায়াত ব্যয় বাবদ সহায়তা পাবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা হ্রাস করতে ও জোরপূর্বক বিতাড়নের ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে সিবিপি হোম ইনিশিয়েটিভ, যা আগে সিবিপি ওয়ান নামে পরিচিত ছিল। অ্যাপভিত্তিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের প্রতি জোরপূর্বক ব্যবস্থার পরিবর্তে সম্মানজনক এবং সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের পথ উন্মুক্ত করা হচ্ছে। প্রতি জোরপূর্বক বিতাড়নে সরকারের আনুমানিক খরচ হয় ১৭,০০০ ডলার, যা তুলনায় এই কর্মসূচি অনেক কম ব্যয়বহুল।

ডিপার্টম্যান্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, এই পাইলট প্রোগ্রামটি সফল হলে আগামী এক বছরে ১০ লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে উৎসাহিত করা হবে। এই উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাবও দিয়েছে।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই কর্মসূচি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, ১ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলে—এমনকি স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করলেও—তাদের ১০ বছরের জন্য পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
এদিকে, হিউম্যান রাইটস ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনার মানবিক দিক এবং বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি অভিবাসীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির একটি নতুন কৌশল।

সিবিপি হোম অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করলেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।যাচাই শেষে যাত্রী ভাতা ও টিকিট সহায়তা দেওয়া হবে।পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আইনি জটিলতা অবশ্য থেকেই যাবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৫ সালের শুরুতে ফের ক্ষমতায় এসে অবৈধ অভিবাসন দমনকে তার প্রধান এজেন্ডা হিসেবে ঘোষণা করেন। এই নতুন পরিকল্পনাটি সেই লার্জার ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউন-এর অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। 
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন