https://www.prothomalony.com/
13248
north-america
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৫ ২৩:৩৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় দিবস উপলক্ষে ইউক্রেনে একতরফা ৭২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। ৮ মে শুরু হয়ে ১০ মে পর্যন্ত চলবে এই অস্ত্রবিরতি। রাশিয়ার সরকার বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি 'মানবিক কারণে' ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ইউক্রেন দীর্ঘমেয়াদি এবং অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছিল। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিয়ি সিবিহা বলেন, "যদি রাশিয়া সত্যিই শান্তি চায়, তাহলে এখনই যুদ্ধবিরতি শুরু করতে হবে।" তিনি জানান, 'কিয়েভ' দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবসম্মত সমঝোতার পক্ষে।
এদিকে পুতিনের প্রশাসন ইউক্রেনকেও যুদ্ধবিরতিতে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে বলেছে, "যদি ইউক্রেন অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে, তাহলে রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনী যথাযথ ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাবে।"
এর আগে পুতিন ইস্টার উপলক্ষে ৩০ ঘণ্টার একতরফা অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু ইউক্রেন জানায়, রাশিয়া তখনও হামলা চালিয়েছিল। একইভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ৩০ দিনের বিদ্যুৎ-পরিকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের একটি চুক্তি হলেও, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ করেছে।
এখন পর্যন্ত পুতিন পূর্ণ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহ ও ইউক্রেনের সেনা সমাবেশ বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। তবে পুতিন প্রশাসন আবারও "কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই শান্তি আলোচনায় প্রস্তুতির" ঘোষণা দিয়েছে এবং বলেছে, ইউক্রেন সংকটের মূল কারণ দূর করতে ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য রাশিয়া প্রস্তুত।
অস্ত্রবিরতির ঘোষণা আসার ঠিক আগে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে দীর্ঘপাল্লার হামলা চালিয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোরে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় চেরকাসি শহরে একটি অবকাঠামো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শহরে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে বলে জানিয়েছেন মেয়র আনাতোলি বন্ডারেঙ্কো। একই সময়ে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ১১৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে, বেশিরভাগই ব্রায়ানস্ক সীমান্ত অঞ্চলে। ইউক্রেনজুড়ে এদিন সকালে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং বিরোধপূর্ণ দাবিতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার (২৭ এপ্রিল) এনবিসি'র 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক করতে হবে, তারা এই উদ্যোগে আরও যুক্ত থাকবে কি না।
ইউক্রেনের যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যস্থতা থেকে সরে গেলে ভবিষ্যতের সহায়তা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, পুতিনের শান্তিচুক্তির আন্তরিকতা নিয়ে ট্রাম্প সন্দেহ পোষণ করেন, কারণ আলোচনার মাঝেও রাশিয়া ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকায় ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম ইউরোপের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তি আলোচনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অগ্রসর বাহিনী আরও বেশি ইউক্রেনীয় এলাকা দখল করতে পারে। তবে শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে একটি সমঝোতার চুক্তি প্রায় কাছাকাছি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার রুবিওর সাথে ফোনে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তারা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করার জন্য যেসব শর্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলো আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে কথা বলেন। তবে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। তবে, ইউক্রেন এখনো শান্তির বিনিময়ে রাশিয়াকে কোনো ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি নয়, যদিও ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, শান্তির জন্য এটি প্রয়োজন হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খনিজসম্পদ চুক্তির দিকে ইউক্রেন এগিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্মিহাল রোববার (২৭ এপ্রিল) জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাহায্য এই চুক্তির শর্তের মধ্যে গণ্য হবে না — এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্মিহাল বলেন, "আমরা পরিষ্কারভাবে আমাদের সীমারেখা নির্ধারণ করেছি: এই চুক্তি ইউক্রেনের সংবিধান, আইন এবং ইউরোপীয় অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে।"
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এখন আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে, ফলে আলোচনাও জটিল হয়ে উঠেছে। সোমবার পুতিন উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব মতে, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য হাজার হাজার সেনা এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। এছাড়া ইরান রাশিয়াকে যুদ্ধে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং চীন যন্ত্রপাতি ও মাইক্রোইলেকট্রনিক্স বিক্রি করেছে, যা মস্কো-অস্ত্র তৈরি করতে ব্যবহৃত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপই ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমর্থক।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন